ফলাফল যা-ই হোক, মেনে নেবো: লিটন

আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সংবাদ সম্মেলননির্বাচনে ফলাফল কী হবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ও জনগণই তা জানেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, ‘আমি অতীতেও বলেছি, এখনও বলছি; নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন— আমি মেনে নেবো। প্রতিপক্ষ প্রার্থীরও জনগণের রায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। ’

শনিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই বিএনপি বলে আসছে- নিবার্চন স্বচ্ছ হবে না, সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বদিচ্ছা নেই। এটি বিএনপি বাংলাদেশের সবখানে বলে, যেকোনও নির্বাচন এলেই তারা এসব বলে। গত ১০ বছর ধরে শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। তাদের এসব কথায় রাজশাহীর মানুষও বিরক্ত হয়ে গেছে। খেলতে নেমেই তারা বলছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। এটি বলা তাদের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে।’

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুলু রাজশাহীতে আসার খবরের পরই আমরা আশঙ্কা করছিলাম। তারপর ককটেল হামলার ঘটনা ঘটলো বিএনপির গণসংযোগে। ঘটনাটি বিএনপি নিজেরাই ঘটালো। এমনকি এই ঘটনায় অডিও ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি তাদের নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ’ 

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নাকি নদীর ধার ও রেললাইনের বস্তি উচ্ছেদ করবো-এমন মিথ্যাচার করছে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকরা। যেখানে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ছিন্নমূল-ভূমিহীন মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন, সেখানে আমরা কেন বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করবো? অতীতেও এমন কিছু করিনি, আগামীতেও করবো না। বরং আমরা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো। জনগণের কল্যাণে কাজ করবো। আগামীতে রাজশাহীর আয়তন বাড়ানো হবে। বর্ধিত অংশে যে গ্রামগুলো থাকবে, সেখানকার মানুষও নগর জীবনের সুযোগ-সুবিধা পাবে।’

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘রাজশাহীতে শিল্পায়নের মাধ্যমে এক লাখ ছেলেমেয়ের চাকরি ব্যবস্থা করতে চাই। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবো। বাড়ি বাড়ি গ্যাস সংযোগ পৌঁছে যাবে।’

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে আসছে বিএনপি। নির্বাচনে বিজয়ী হলেই তাদের কাছে নির্বাচন সুষ্ঠু মনে হয়। আর হারলে বলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনে পুলিশকে ব্যবহারের আমাদের প্রয়োজন নেই। কারণ ইতোমধ্যে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি নৌকার বিজয় হবে। বাচ্চারাও বলে বেড়াচ্ছে নৌকা, আর নৌকা। গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট সংকট ছিল। রাজশাহীতেও এজেন্ট সংকট আছে। তাদের এজেন্ট সংকটের ফলে তারা বিভিন্নভাবে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলছে- আমরা তাদেরকে বাধা দিচ্ছি। তারা নানা ধরনের বায়বীয় অভিযোগ তুলছে। আসল কথা হচ্ছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় বিভক্তির কারণে বুলবুল সাহেবের সঙ্গে কেউ নাই। নেতাকর্মীরাও মাঠে নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের পর নগরীর পার্টিপয়েন্ট রেস্তোরাঁয়  বরিশাল বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় যোগ দেন খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।