রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। রাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে ১৩৮টি কেন্দ্রের ১০২৬ কক্ষে। এরমধ্যে নির্বাচন কমিশন ১১৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান।
এদিকে, রবিবার সকাল ১১টা থেকে রাজশাহীর গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল মিলনায়তনে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এ কার্যক্রম শুরু করেন।
রবিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় নিজ নিজ কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছেন। এবার নগরীর বিবি হিন্দু একাডেমিতে দুইটি কেন্দ্রে (১০০,১০১) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে রাসিক নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, রাজশাহীতে এবার মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ২০টি। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি বুথে একজন করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দুইজন করে পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
এবার সিটি করপোরেশনের ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এরমধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। ৩০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন দলীয় প্রতীকে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এছাড়াও সাধারণ ১৬০ জন ও ৫২ জন সংরক্ষিত নির্দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত পালন করছেন। রিটানিং কর্মকর্তা হিসেবে আছেন আমিনুল ইসলাম। তার ১০ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ২ জন সহায়ক কর্মকর্তা, ২ জন পর্যবেক্ষক সমন্বয়কারী, ১২ জন নিজস্ব পর্যবেক্ষ ও ১০২৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ৯টি সংস্থার ১৯৯ জন পর্যবেক্ষক থাকবে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাস থেকে তিনজন থাকবেন। এরমধ্যে একজন বিদেশি ও দুইজন দেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন।
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার জানান, ‘শনিবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ প্লাটুন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও চার প্লাটুন রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তারা বিশেষ প্রয়োজনে বের হবে।’
এদিকে র্যাব-৫ (সিও)-এর লেফটেন্যান্টে কর্নেল মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সাড়ে ৪০০ র্যাব সদস্য মাঠে থাকবে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে র্যাবের একটি করে টিম অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে বাকিরা টহলরত অবস্থায় থাকবে।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘জননিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রেখে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নির্বাচনি মাঠে থাকছে। এছাড়াও পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১৯৫০ জন আনসার সদস্য থাকছে। ’
উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগরীর রামপুর বোয়ালিয়া নামে খ্যাত থাকাকালীন ১৮৬৯ সালে রামপুর বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটির সূচনা হয়। পরবর্তীতে রামপুর বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি রাজশাহী পৌরসভা নাম ধারণ করে। ১৯৮৭ সালের ১৩ আগস্ট অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাজশাহী পৌরসভা রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে উন্নীত হয়। ১১৯০ সালে মিউনিসিপ্যাল শব্দটির পরিবর্তে সিটি শব্দটি যুক্ত হয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নামকরণ হয়। রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন থেকেই ৯৭.১৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৩০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
এদিকে ২০০২ সালের ২৯ মে প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান মিনু। এরপরের মেয়াদেও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং ২০১৩ সালে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।