আটজন নিহত: ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কারসহ দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নেসকোর এমডির

 সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই গ্রামের আটজন নিহতের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন নেসকোর এমডিসিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই গ্রামের আটজন নিহতের ঘটনায় বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকোর) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকিরুল ইসলাম নেতৃত্বে দলটি কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাঁদাই গ্রামে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

এ সময় তিনি নিজের দফতর ও সিরাজগঞ্জে নেসকোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফলাতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে মানবিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মোহাম্মদ রায়হান, স্থানীয় নেসকোর আবাসিক ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম মহীউদ্দিন, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক আজাহার আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে. এম. হোসেন আলী হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে কাঁদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁদাই গ্রামসহ সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে অবৈধভাবে বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডালে টানানো নেসকোর জীর্ণশীর্ণ বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করা হবে।

দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন, নেসকোর পাবনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন, সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম মহিউদ্দিন এবং সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও আব্দুল হামিদ।

বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নেসকোর এমডি বলেন, ‘তদন্তের পর সবকিছুই বের হয়ে আসবে। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আমাকে সময় দিন। পরে তিনি কাঁদাই গ্রামে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এর আগে বিদ্যুৎ বিভাগসহ স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে এমডি দুর্ঘটনায় নিহতদের কবর জিয়ারত করেন।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা এ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দেন। এ তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় সদর থানায় এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজন বা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ।