বগুড়া পুলিশের অভিযানে কুড়িগ্রাম থেকে তিন জেএমবি সদস্য গ্রেফতার





গ্রেফতার ৩ জঙ্গি এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রবগুড়া পুলিশের অভিযানে কুড়িগ্রাম থেকে তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ আগস্ট) রাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইনটেলিজেন্স শাখা ও বগুড়া ডিবি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া শনিবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।



গ্রেফতার জঙ্গিরা হলো, কুড়িগ্রাম জেলার ঢুসমারা উপজেলার দিয়ারার চর কৌনাইছাপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে ও ইছাবা শাখা (সামরিক) প্রধান তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোতা মিয়া (৩০), একই গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে ও জেএমবির কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও ঢুসমারা উপজেলার ইছাবা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং ঢুসমারা উপজেলার দিয়ারার চর মুন্সিপাড়ার মৃত আবদুস সামাদ আকন্দের ছেলে আবদুল হামিদ (৬০)।
পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, গত ২৯ জুলাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর দুর্গম চর বাগডহড়া থেকে একে-২২ রাউফেল ও বিভিন্ন অস্ত্রসহ জেএমবির ৪ শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। চার দিনের রিমান্ডে তারা অন্য জঙ্গিদের সন্ধান দেয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইনটেলিজেন্স শাখা ও বগুড়া ডিবি পুলিশ যৌথভাবে শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে কুড়িগ্রামের ঢুসমারা উপজেলার দিয়ারার চর কৌনাইছাপাড়া গ্রামে জঙ্গি রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ওই বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম ছাড়াও তোতা মিয়া, আবদুল হামিদকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গি নিয়াজ, মেরাজ, খয়রুল, কামরুল ও আমিন পালিয়ে যায়। তোতার কাছে ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগজিন, রফিকুল ইসলামের ঘর থেকে ৫০০ মিলিলিটার সালফিউরিক এসিড, ৫০০ গ্রাম সোডিয়াম নাইট্রেট পিউরিফাইড এবং ৫০০ গ্রাম ইমপ্লুরা লেড নাইট্রেট পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জঙ্গিরা জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনও নাশকতার জন্য তারা জঙ্গি রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিল। উদ্ধার করা রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে অন্তত ৩০টি শক্তিশালী গ্রেনেড তৈরি করা যেত। জঙ্গিদের গ্রেফতার না করলে তারা বড় ধরনের কোনও নাশকতা করতো।