অর্থ সংকটের মধ্যেও ঈদে চামড়া ক্রয় করবেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা

রাজশাহী

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওয়ানা রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এরপরও এবারের কোরবানির ঈদেও চামড়া কিনবেন বলে জানান রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা।

ট্যানারির মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ।

তিনি বলেন, চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মলিকদের থেকে ২০১৫-১৭ সালের বকেয়া প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাবে। এছাড়া চামড়ার দাম নির্ধারণের পরেও সেই দামে কেনে না ট্যানারি মালিকরা। ফলে চামড়া নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়তে হয় তাদের।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম হবে ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। যা গত বছর ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা। তবে মহিষের চামড়ার দামের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

জানা গেছে, রাজশাহীতে প্রতি কোরবানি ঈদে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার গরু-মহিষ এবং ২০ হাজার ভেড়া, এক লাখ ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। রাজশাহী জেলায় প্রায় ৩৫-৪০টি আড়ৎ রয়েছে। এই আড়তগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চামড়া কেনেন ট্যানারি মালিকরা। 

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারিভাবে প্রতি বছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। তারপরও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ট্যানারি মালিকরা চামড়া নিতে চায় না। এসময় বাধ্য হয়ে চামড়া দিতে গেলে তেমন দাম পাওয়া যায় না। এছাড়া পরিবহন, শ্রমিক খরচ দিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারি হয়ে যায়। তার ওপর রয়েছে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। তারা দাম না বুঝে বেশি দামে চামড়া কেনে।

প্রতিবছর কোরবানির আগে চামড়া ব্যাবসয়ীদের টাকা দেয় ট্যানারি মালিকরা। ঢাকার হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের নতুন করে ট্যানারির তৈরি করতে হয়েছে। ফলে তারা ব্যবসায়ীদের আগে টাকা দিচ্ছেন না। এর ফলে চামড়া কিনতে হিমসিম খেতে হবে ব্যবসায়ীদের।

 রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তা গত বছরের চেয়ে কম। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ হিসেব করতে গেলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি পড়ে চামড়ার দাম। বর্তমানে চামড়ার দাম কম। এই বছর শবেবরাতে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে চামড়া। এর ১৫ দিনের ব্যবধানে রোজার ঈদে নেমে আসে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

ঈদের কয়েক দিন পরে চামড়া বিক্রি করলে কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লবণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ ধরলে চামড়ার দাম দ্বিগুন পড়বে। দেখা যাবে ছাগল-ভেড়ার চামড়ায় লবণের দাম উঠবে না। বর্তমানে লবণের ৬৫ কেজির বস্তার দাম ৮০০ টাকা। লবনের দাম বাড়লে চামড়ায় বেশি খরচ পড়বে। এরপর যেহেতু চামড়ার ব্যবসা করি। তাই এই মৌসুমে আমাদেরকে অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে চামড়া কিনতে করতে হবে।