বগুড়ায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর পুলিশ সাবেক সেনা সদস্যসহ দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। শনিবার রাতে তাদের শহরের জেলা পরিষদের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে সেনা বাহিনীর চারটি ভুয়া নিয়োগপত্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ভুয়া অ্যাক্রেডেশন কার্ড ও নগদ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। রবিবার তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
প্রতারকরা হলো, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে সেনা বাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত শাহিনুল ইসলাম (৪৭) ও ধুনট উপজেলার নিক্তিপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রুবেল মাহমুদ (২২)।
সদর থানার এসআই সোহেল রানা জানান, কোনও অপরাধের কারণে শাহিনুল ইসলামকে ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামুলক অবসর দেওয়া হয়। তার সহযোগী রুবেল মাহমুদ নিজেকে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা পরিচয় দিতো। তারা দু’জন সেনা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে বেকারদের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। তারা ধুনটের রঞ্জু শেখের ছেলে রাকিবুল হাসানকে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওবার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে আড়াই লাখ টাকা চুক্তি করে দুই লাখ টাকা অগ্রিম নেয়। এরপর আর চাকরি দিতে পারেনি। এতে সন্দেহ হওয়ায় ভুক্তভোগী রাকিবুল হাসান সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। চুক্তির অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা নিতে দুই প্রতারককে শনিবার রাতে বগুড়া শহরের জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে আসতে বলা হয়। টাকা নেওয়ার সময় শাহিনুল ইসলাম ও রুবেল মাহমুদকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। শাহিনুলের কাছে সেনাবাহিনীর চারটি ভুয়া নিয়োগপত্র, আজকাল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অ্যাক্রেডেশন কার্ড ও ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে রাকিবুল হাসান সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।