বগুড়ায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাত: অভির দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

কাওসার অভিপ্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বগুড়ায় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাত করা শহর যুবলীগ সভাপতির ছেলে কাওসার অভি (২২) এখন পুলিশ হেফাজতে। মা নাসরিন আলম রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ হোসেন জানান, তাদের ব্যাপক তৎপরতার মুখে অভিভাবকরা অভিকে থানায় সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেন। বগুড়া শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয়ের স্ত্রী নাসরিন আলম রবিবার রাতে সদর থানায় এসে তার ছেলে অভিকে সোপর্দ করেন। সোমবার বিকালে অভিকে সদর কোর্টে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে সন্ধ্যায় বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, বগুড়া শহরতলির পালশা বিদ্যুৎনগর এলাকার জাহিদুর রহমানের মেয়ে বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শহরের বাদুড়তলায় রূপছাড়া বিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ানের কাজ শেখে। বাড়ি থেকে কলেজ ও পার্লারে যাতায়াতের পথে অভি তাকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এতে সাড়া না দেওয়ায় কলেজছাত্রীর ওপর অভি ক্ষিপ্ত হয়। গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে অভি ও তার তিন সঙ্গি বাদুড়তলায় ওই বিউটি পার্লারে যায়। সেখান থেকে ছাত্রীকে তুলে কাটনারপাড়ার একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। আবারও প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর করার পর উরু ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নামাজগড় এলাকার ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অভির মা ও অন্যরা হাসপাতালে গিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দিলে ভয়ে অভিভাবকরা ৩১ আগস্ট ছাড়পত্র ছাড়াই মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর বিকালে ছাত্রীর বাবা জাহিদুর রহমান সদর থানায় অভি ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিকে গ্রেফতারে তৎপর হয়। এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে রবিবার রাতে মা নাসরিন আলম তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। অপরদিকে আসামির পরিবার ঝামেলা এড়াতে ছাত্রীর পরিবার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।