হামলার শিকার স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জসরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রোগীর সংক্ষুব্ধ স্বামীর হামলার শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা দফতরের স্বাস্থ্যকর্মী (এফডব্লিউএ) রুকসানা খাতুন। গর্ভনিরোধক ইমপ্ল্যান্ট বসানো একজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বামী রুকসানাকে ইমপ্ল্যান্ট খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানোর পরেও তিনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংক্ষুব্ধ স্বামী রুকসানাকেই মারধর করেন। কারণ স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট নারীকে তিনিই উৎসাহিত করেছিলেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী হামলার শিকার হলেও তারা হামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেননি।
তিন বছরের জন্য গর্ভধারণ রোধে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের চন্ডিদাসগাঁতী গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের শরীরে বেশ কিছুদিন আগে পরিবার পরিকল্পনা দফতরের মাধ্যমে ইমপ্ল্যান্ট বসানো হয়। ইমপ্ল্যান্ট বাসানোর পর সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্তপাত হচ্ছিল। ফাতেমার স্বামী শফিকুল ইসলাম ইমপ্ল্যান্টটি খুলে ফেলার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানাকে চাপ দেন।
অবশেষে ফাতেমাকে নিয়ে শনিবার সকালে সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে থেকে যান স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানা। কিন্তু, দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ আইনুল হক এ বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় দুপুরের পর তাদের ফিরে আসতে হয়। এদিকে, ইমপ্ল্যান্টটি খুলে না দেওয়ায় পথিমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানাকে গ্রামবাসীর সামনে বেধড়ক পেটান ফাতেমার স্বামী শফিকুল। আহত রুকসানাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়র পর রবিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিতালাতুননেছা সরকারি হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়।

স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানা খাতুনের স্বামী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রোগীর স্বামীর হাতে আমার স্ত্রী রুকসানা মারধরের শিকার হন। বিষয়টি জানার পরও জেলার পরিবার পরিকল্পনা দফতরের উপ-পরিচালক দেখতে আসেননি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি।

রুকসানার ভাষ্য, ‘চন্ডিদাসগাঁতী গ্রামে ৩ বছরের জন্য গর্ভধারণ রোধে স্থাপিত ফাতেমার ইমপ্ল্যান্টটি ঠিক মতো বসানো না হওয়ায় তা থেকে রক্ত ঝরছিল। তার স্বামী সেটি খুলে দিতে বারবার পীড়াপীড়ি করছিলেন। আমি নিজে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ আইনুল হক স্যারকে জানাই। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে সেভাবে গুরত্ব দেননি। গুরত্ব দিলে তার স্বামীর হাতে আমাকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হতো না। ডিডি স্যারসহ আমাদের দফতরের সকলেই বিষয়টি জানেন।’

সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ আইনুল হক সোমবার সকালে বলেছেন, ‘এ ধরণের সমস্যা দেখা দিলে আমরা রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করে থাকি। ফাতেমার ক্ষেত্রেও আমরা তাই-ই করেছি। রবিবার রাতে বিষয়টি শুনে হাসপাতালে রুকসানাকে দেখতেও গিয়েছি।’

সিরাজগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা দফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোঃ তারিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘স্বাস্থ্যকর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন, তা শুনেছি। কিন্তু তার পক্ষ্য থেকে এ বিষয়ে আমাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ না পেলে আমরা কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব? সঠিক অভিযোগ পেলেই কেবল মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আর যত দূর শুনেছি, বিষয়টি গ্রাম্য সালিসে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’

সদর থানার অফিসার-ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম (তদন্ত) জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। রোগীর স্বজন বা পরিবার পরিকল্পনা দফতরের কেউ আমাদের এ বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি।’

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিতালাতুননেছা সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রমেশ চন্দ্র সাহা বলেছেন, পরিবার পরিকল্পনা দফতরের স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানার শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে উপযুক্ত চিকিসৎসার পর এখন তিনি শঙ্কামুক্ত।