সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিম বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাশপাশি ভূঁইপুর ও মুথুরাপুর গ্রাম। দুটি গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। দুটি গ্রাম সংলগ্ন ইরামতি খাল ওই ওয়ার্ডকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে।
ভূঁইপুর গ্রামের আকরাম হোসেন, গাজীউর রহমান গাজী, গৃহবধূ চুমকি, মুথুরাপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলহাজ নাজিমুদ্দিন, আজিজুল হক ও আরেফিনসহ অনেকেই জানান, খালের ওপারে মুথুরাপুর ও আলতাফনগর গ্রামে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা), হাট-বাজার এবং আলতাফনগর রেলস্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসলেও ইরামতি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়নি। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে প্রচারণায় এসে জনপ্রতিনিধিরা খালের ওপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। নির্বাচিত হবার পর আর কেউ কথা রাখেন না। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে ৬-৭টি গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া চলাচল করা সম্ভব হয় না। আবার সেতুর অভাবে এক কিলোমিটার পথ যানবাহন ও মালামাল নিয়ে চলতে ৯-১০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। এতে জনগণ বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ প্রসঙ্গে ইউনিয়নের সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রায় ৭ বছর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে ইরামতি খালের দু’পার্শ্বে রাস্তার জন্য মাটি ভরাটের কাজ করেছে। গ্রামবাসীরা এই খালের ওপর সেতুর আশায় রাস্তার জন্য নিজেদের জমি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের সে আশা পূরণ হয়নি।’
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন চৌধুরী হেলাল বলেন, ‘সেতু মাপে বড় হবে, তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস মাপ নিলেও নির্মাণ করতে পারছে না। এছাড়া আমার পরিষদে সেতু নির্মাণের মতো টাকা নেই। সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে আলোচনা হচ্ছে।’ তিনি গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে ইরামতি খালের ওপর সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ মিটার সেতু নির্মাণের মতো ফান্ড আমাদের নেই। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফান্ড পেলে সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’