রাজশাহীর তানোরের জোহরা খাতুনকে (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করেছে তার পুত্রবধূ সোনিয়া আক্তার রুমি (২২)। রবিবার রুমির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ জানান, ঘটনার দিন শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে শাশুড়ি তার পুত্রবধূ রুমিকে মারতে যান। এ সময় রুমি তার শাশুড়িকে প্রথমে আঘাত করেন। এতে জোহরা মাটিতে পড়ে যান। এরপর রুমি তার শাশুড়ির মুখে আঘাত করলে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে জোহরাকে ঘরে নিয়ে যান রুমি। ঘটনাটি স্বামীকে বলে দেওয়ার ভয়ে চাপাতি দিয়ে জবাই করে তিনি জোহরার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের অবস্থান বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই পুত্রবধূর ওপর সন্দেহ হচ্ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুমির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে রবিবার তাকে জিজ্ঞসাবাদ করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুমি জোহরা হত্যার বর্ণনা দেন। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।
উল্লেখ, ৩ অক্টোবর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর জিতপুর গ্রামে গলাকেটে হত্যা করা হয় জোহরা খাতুনকে। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় আহত অবস্থায় জোহরার পুত্রবধূ রুমিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
প্রায় ২০ বছর আগে জোহরার স্বামী হেলালের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে জোহরা ছেলে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলে জাহাঙ্গীরের বিয়ের পর থেকে পুত্রবধূ রুমি ও তাদের মেয়ে জুঁই জোহরার সঙ্গে থাকেন। ছেলে জাহাঙ্গীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পূবালী ব্যাংকের নাইট গার্ড পদে চাকরি করেন।