ফল প্রকাশের দাবিতে নওগাঁর সিভিল সার্জন দফতরের সামনে চাকরি প্রত্যাশীদের অবস্থান

ফল প্রকাশের দাবিতে নওগাঁর সিভিল সার্জন দফতরের সামনে চাকরি প্রত্যাশীদের অবস্থান

উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগের দাবিতে নওগাঁয় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিভিল সার্জনের দফতরে নিয়োগ প্রত্যাশীরা। রবিবার (১৪ অক্টোবর) সিভিল সার্জনের কার্যালয় ভবনের সামনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাইকোটের নির্দেশ অমান্য করে তাদের ফল প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর ওই মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে কোনও প্রকার উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ এই ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকা অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকুরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নওগাঁ সিভিল সার্জন দফতর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন দেশের ৯ জেলার (নওগাঁ, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা ও বরিশাল) সিভিল সার্জনের দফতরে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১২ সালে। নওগাঁ জেলায় ১১৯টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগ্রহীরা আবেদন করেন।এর ভিত্তিতে ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় ফলাফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা। আজ হয়, কাল হয় বলে তা আর হয়নি এখন পর্যন্ত। এর মাঝে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ তুলে করা এক রিট আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৪ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই মৌখিক পরীক্ষার ফল তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। অবশ্য তিন মাস পর একই আদালত ফল প্রকাশের আদেশ দেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ওই ফলাফল প্রকাশ না করে বরং ২০১৫ সালে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ অবস্থায় সংক্ষুব্ধরা উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে গেলে চলতি বছরের ২১ মে আদালত আবারও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে নিয়োগটি ৬০ কর্ম দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু, চূড়ান্ত রায়ের পর সাত মাস অতিবাহিত হতে চললেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

নিয়োগ প্রত্যাশী রুহুল আমিন,আজিজুল হক, নূরে আলম সহ সাত-আট প্রার্থী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে প্রায় ৬ বছর ধরে তাঁদের নিয়োগ ঝুলে আছে। নওগাঁয় লিখিত পরীক্ষায় মোট ৩৩০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। তাদের প্রায় সবাই এখনও মৌখিক পরীক্ষার ফল জানার অপেক্ষায় আছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফল প্রকাশ করে মেধা তালিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে নওগাঁর সিভিল সার্জন মোমিনুল হক বলেন, গত মে মাসে আদালতের রায় অনুযায়ী ৬০ কর্ম দিবসের মধ্যে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি এখন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে গিয়ে আটকে আছে। ২০১২ সালে নওগাঁ জেলায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ১১৯টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যাপক জনবল সঙ্কট চলছে। দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে সমস্যা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা যাবে।