বগুড়া-১ আসনে আ.লীগ-বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ে একাধিক নতুন মুখ

আব্দুল মান্নান, মো. শোকরানা, আহসানুল তৈয়ব জাকির, আলমগীর শাহী সুমন, মো. শাহজাহান আলী, কাজী রফিকুল ইসলামবগুড়া-১ আসনে (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীরা ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে ভোটারদের কাছে নিজেদের নানাভাবে তুলে ধরলেও সবাই মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রের দিকে চেয়ে আছেন। পরপর দু’বার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে বর্তমান এমপি আবদুল মান্নানের পাশাপাশি মনোনয়ন দৌড়ে দেখা যাবে একাধিক নতুন মুখকে। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশ্য হিসেবে আলোচনায় আছেন অন্তত সাতজন।
সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ আট হাজার ৯০২ জন। এরমধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৮২ জন এবং সোনাতলা উপজেলায় এক লাখ ৪১ হাজার ১২০ জন।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অপর বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয় মোহাম্মদ শোকরানাকে। তাকে প্রায় সাত হাজার ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান। বিএনপির এ আসনে গত নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান জয়লাভ করায় এ নির্বাচনি এলাকার প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আবারও প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান। তার অনুসারীরা বলছেন, এবারও তিনি টিকিট পাবেন। সারিয়াকান্দিতে দলীয় কোন্দলের কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পৌর মেয়র সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর শাহী সুমনকে। দলে বিভক্তির কারণে সুমনও প্রার্থী হতে চান। জনপ্রতিনিধি সুমন দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তার অনুসারীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা জানান, নানা নির্যাতন ও হয়রানির শিকার পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন নৌকার প্রার্থী হতে মাঠে ব্যাপক তৎপর।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার বিশাল জয় আওয়ামী লীগের ঘরে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভক্ত আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছি যা হাই কমান্ড জানে। আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। পৌরবাসীকে যেমন সেবা দিয়েছি এমপি হলে আরও বেশি সেবা দেবো।’
বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) এখন দেশের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদের শাসনামলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা চোখে পড়ার মতো। এর আগে এলাকার মানুষ এত উন্নয়ন দেখেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় কয়েক বছরে নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি মেয়াদে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার উন্নয়ন করা হয়েছে। তাই এবার দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হবো বলে আশা রাখি।’
এদিকে হারানো বগুড়া-১ আসন ফিরে পেতে ব্যাপক তৎপর রয়েছেন বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে ঢাকাস্থ বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি ও জিয়া শিশু-কিশোর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শোকরানা, সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির। এছাড়াও প্রার্থী তালিকায় আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু মন্ডল ও ড্যাব নেতা ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী।
মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেলে খালেদা জিয়াকে ধানের শীষের বিজয় এনে দেবো। দলমত নির্বিশেষে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিবাসীদের নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার দুঃস্থ জনগণকে সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের জামিনে সহযোগিতা করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো।’
একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে ছিলাম, থাকবো। পৌনে ২০০ নেতাকর্মীর মামলা পরিচালনা করেছি। তাই আমার বিশ্বাস এবার বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাবো। আর নির্বাচিত হলে এলাকার নদী ভাঙনসহ দুঃস্থ মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো।’
এ আসনের সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০০১ সালে নির্বাচিত হবার এলাকার নদী ভাঙন রোধে ব্যাপক কাজ করেছি। এছাড়া রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, হাসপাতাল নির্মাণ, পৌরসভা স্থাপন ইত্যাদি কারণে এবারও আশা করি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
জাতীয় পার্টি এ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম। তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করে এলাকায় অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘সারিয়াকান্দি উপজেলা যমুনা ও বাঙালি নদীর ভাঙনে ক্ষত-বিক্ষত। ভাঙনের শিকার অনেকে বিভিন্ন চরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে নদী শাসন করতে হবে। আশা করি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে ওইসব সমস্যার সমাধান ছাড়াও উন্নয়ন কাজ করে যাবো।’