কাঁদলেন, নৌকার পক্ষে কাজের অঙ্গীকারও করলেন মনোনয়নবঞ্চিত দারা

কাঁদছেন দারা, বিমর্ষ কর্মী-সমর্থকেরা (ছবি– প্রতিনিধি)

‘আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও তৎপর। যেকোনও ত্যাগের বিনিময়ে সব ষড়যন্ত্র, শত্রুতা ভুলে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার চেষ্টা করতে হবে। যদি আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে না পারি, তাহলে আবারও রাজাকার, আলবদর, আল-শামসরা ক্ষমতায় আসবে। আবারও দুঃশাসন শুরু হবে। এ অবস্থা হতে দেওয়া যাবে না।’

কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারার। সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে বেশ কয়েকবার টিস্যু দিয়ে চোখের পানিও মুছলেন মনোনয়নবঞ্চিত এই আওয়ামী লীগ নেতা।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা ঢাকা থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহের নিজ বাড়িতে এলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও এসে ভিড় করেন। এসময় সংবাদকর্মীরা আসলে তাদের সামনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন ওয়াদুদ দারা। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বিন্দ্বতায় তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হন। তার জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমান। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আজ (শুক্রবার)ওয়াদুদ দারা এলাকায় ফেরেন।

গাল বেয়ে চোখের পানি নামছে, ধরা গলায় কথা বলছেন দারা (ছবি– প্রতিনিধি)

আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ‘আমার পিতা রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। আমার বাড়ির সামনেই মুক্তিযুদ্ধে দাদা-চাচা-ফুফুসহ অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইচ্ছে করে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি করেছিলেন। চেষ্টা করেছি, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে এলাকার মানুষের উন্নয়ন করতে। আপনারা (সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে) জানেন, এই অঞ্চল জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত ছিল। জানি না, কোথায় আমার ভুল। প্রধানমন্ত্রী আমার মায়ের মতো, বোনের মতো। তিনি আমাকে বলেছেন কাজ করতে। আমি আওয়ামী লীগের কাজ করতে এসেছি। সেই প্রত্যয় নিয়েই এসেছি। যারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তারা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবো, এই ষড়যন্ত্র থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। যে সর্বনাশ আপাতত আমার হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এটি কোনও সর্বনাশ নয়; মূল সর্বনাশ হবে যদি আমরা আসনটি ধরে রাখতে না পারি। যেকোনও ত্যাগের বিনিময়ে সব ষড়যন্ত্র, শত্রুতা ভুলে গিয়ে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার চেষ্টা করি। নৌকার পক্ষে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ আসনে প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই জনপ্রিয়। তাকে (ডা. মনসুর) আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ী করবো, ইনশাল্লাহ। ব্যক্তির ওপর রাগ-ক্ষোভ অভিমান থাকতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের রাগ-ক্ষোভ থাকা অনুচিত।’

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তাজুল, বেলপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বদি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এসএম একরামুল হক, সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক, পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের  অন্যতম সদস্য ও বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ মোল্লাহ ও পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি।