আ.লীগ এখন আর বঙ্গবন্ধুর নয়, নৌকা দুঃশাসনের প্রতীক: মান্না

বগুড়ায় মাহমুদুর রহমান মান্নানাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এখনকার আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। নৌকা এখন দুঃশাসনের প্রতীক। আর ধানের শীষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের প্রতীক।’ বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার মাধ্যমে সরকার ৫০টি আসন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অবশিষ্ট ২৫০ আসনে ভোট করে যদি জয়লাভ করতে না পারি তাহলে পরবর্তী বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সারাদেশের মতো বগুড়ার শিবগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে মানুষ মাঠে নেমেছে। নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই চক্রান্ত চলছে। কিন্তু ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র দখল করা যাবে না। ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাঠে আছি, থাকবো। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো।’

তিনি বলেন, ‘শিবগঞ্জের ভায়েরপুকুরে আমার নির্বাচনি প্রধান কার্যালয় ও মোকামতলায় অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর গাড়িবহরে মিথ্যা হামলার অজুহাতে আমার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমসহ ৩৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাজানো মামলা হয়েছে। এরা সবাই আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য। এলাকায় পোস্টার ছিঁড়ে ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে আমাকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না। তবে ভোটাররা আমাকে বলছেন, আপনি ধৈর্য ধরুন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারলে এর উত্তর দিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে, এখন আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘সরকারের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে আছি। সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এরপরও আমি চাই সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশ করুন।’

আগে এ আসনে নৌকা প্রতীকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন, এখন নিশ্চিত জয়লাভের কথা বলছেন- এটা ব্যক্তি না প্রতীকের (ধানের শীষ) কারণে, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে মান্না বলেন, ‘নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইতে গেলে মানুষ মার্কা পরিবর্তন করতে বলেছেন। তাই মার্কা বদলিয়ে ধানের শীষ নিয়েছি। এখন প্রার্থীও ভালো, মার্কাও ভালো।’

এলাকায় বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না, এতে ক্ষোভের কারণে তারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন কিনা- এই প্রশ্নের উত্তরে মান্না বলেন, ‘কখনও নয়। ওই আসনের প্রার্থিতা চাওয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম আর ইসলাম স্বাধীন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর শাহে আলম আমার সঙ্গে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীন উপস্থিত থাকলেও শাহে আলম মামলার কারণে আসতে পারেননি।’

সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান মতিন, ডা. আশিক মাহমুদ ইকবাল স্বাধীন, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না পরে তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন।