বগুড়া-৫ আসন একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে পরপর দুইবার আসনটি দখলে থাকায় আওয়ামী লীগ এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করে বিএনপির ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। তবে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল থাকলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে নৌকার জয়ী হতে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন নেতাকর্মীরা। ধুনট ও শেরপুর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নৌকার পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, মাইকিং ও গণসংযোগ করছেন, নেতাকর্মীরা।
মনোনয়ন নিয়ে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা ও বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখনও রয়েছে। এ কারণে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রচারে দেখা যায়নি খোকাকে। অভ্যন্তরীন কোন্দলের সুযোগে ১১ ডিসেম্বর ধুনট বাজারে প্রচারের প্রথম দিনই সিরাজের গাড়িবহরে হামলা হয়। এ ঘটনায় সিরাজ ধুনট থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৮ ডিসেম্বর ধুনটের নিমগাছী ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রচার চালিয়ে ধুনটে ফেরার পথে হুকুমআলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নৌকার সমর্থকরা অবস্থান নিলে সিরাজ পশ্চিমভরনশাহী এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশের সহায়তায় তিনি ধুনট ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ সিরাজের সমর্থকরা ১৮ ডিসেম্বর রাতে নৌকার সমর্থক যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে মারধর করে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
এরপর থেকেই বিএনপি প্রার্থী সিরাজ ধুনট উপজেলায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেননি। এছাড়া ধুনট উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার আতঙ্কে প্রকাশ্যে নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারছেন না।
সিরাজের অভিযোগ, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনও দিনই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই দফায় দফায় তার গাড়িবহরে হামলা, প্রচার মাইক ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা নিরাপদে প্রচার চালাতে পারছেন না।’
নৌকার প্রার্থী হাবিবর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসী উন্নয়ন চায়। তাই ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় নৌকার গণজোয়ার শুরু হয়েছে। আর বিএনপি প্রার্থী সিরাজ হয়ে এই জনপদে তেমন কোনও উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই এলাকাবাসী তাকে মেনে নিতে পারছেন না। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার কোন্দল রয়েছে। এ কারণে নিজ দলের হামলার শিকার হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যাচার করছেন।’
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যে কোনও ধরনের নাশকতা এড়াতে র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি এলাকায় টহল দিচ্ছে।