রাজশাহী আবহাওয়া অদিফতর সূত্রে জানা গেছে, কদিন থেকে ভোরে কুয়াশা পড়ছে। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে। বিকালের পরে হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতের প্রকোপও। তিন দিন ধরে রাজশাহীতে অব্যাহত আছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ছিল ৬ দশমিক ৭, বুধবার ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী কার্যালয়ের আবহাওয়া সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আরও বাড়বে শীতের প্রকোপ। মধ্য জানুয়ারির (১৫ তারিখ) পর্যন্ত থাকতে পারে শীতের তীব্রতা। শেষ সপ্তাহ থেকে কমতে পারে শীতের দাপট। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। সন্ধ্যায় ছিল ৬৬ শতাংশ।’
রাজশাহী নগরীর বুধপাড়া এলাকার আবেদ আলী (৭৫) বলেন, গত কদিনের তুলনায় বেশি শীত লাগে। শীতের সঙ্গে বাতাসও বইছে।
অন্যদিকে, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোতে গরম পোশাক বিক্রি বেড়েছে। নগরীর গণকপাড়া এলাকার ফুটপাতের দোকানে গত কয়েক দিনের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকানগুলোতে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাতমোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জি। কম্বলের দোকানেও ভিড় চোখে পড়ার মতো।
নগরীর সাহেববাজারে নাজমুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, শীতের শুরুতে কেনা পোশাকে এ তীব্র শীতে কাজে লাগছে না। তাই তিনি আবার গরম কাপড়ের দোকানে ছুটে এসেছেন।
গরম কাপড় বিক্রেতারা জানান, শীত বাড়লে তাদের ব্যবসাও বাড়ে। বেশি শীতের জন্য রাতভর দোকানে বেচাবিক্রি হচ্ছে। বছরের মাত্র ক’দিন ন তাদের ব্যবসা ভালো চলে। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারা।
এদিকে, শীতার্ত মানুষের কথা মাথায় রেখে শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজশাহী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, এরইমধ্যে জেলার ৯ উপজেলার জন্য ৩৭ হাজার ৮০০ কম্বল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহানগর এলাকার জন্য দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার কম্বল।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দেশের এবং মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়। সারাদিনই হিমেল হাওয়া বইতে থাকে।
এদিকে দিনভর তীব্র ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ায় সারাদিনই কর্মজীবী খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট বাজার থেকে মানুষ বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তবে ছিন্নমূল মানুষগুলোর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।