উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে এবারে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আলু চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় আলু ক্ষেত অনেকটাই রোগ-বালাই মুক্ত। ফলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে।
উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী বলেছেন, ‘আমি এবছর ৫ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। হিমাগারে কিছু বীজ রেখেছিলাম। আর বাকিটা কিনে জমিতে বপন করেছি। মনে হচ্ছে, এবার আলুর আশানুরূপ ফলন পাব। দাম ভালো হলে বিগত দিনে বন্যায় হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে পুরোদমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারব।’
বজ্রপুর গ্রামের কৃষক সুলতানুর আলমের ভাষ্য, আমি চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৮বিঘা জমিতে লালপাকরী জাতের আলুর আবাদ করেছি। কোনও প্রকার দুর্যোগ ও রোগবালাই না থাকায় এবছর আলুর বাম্পার ফলন পাব বলে আমি আশা করছি।’
উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফি উদ্দিন আহম্মেদ বললে, শুরুতে আলুর ক্ষেতে নানা ধরনের পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতা দিয়ে আসছি আমরা। বর্তমানে আলু ক্ষেত প্রায় শতভাগ রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছি।’
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন জানিয়েছেন, আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আলুর চাষ হয়েছে। যথা সময়ে জমি চাষ যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকরা আলুর আবাদ করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনও প্রকার ক্ষতি না হলে আত্রাই উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।