রাস্তার পিঠায় ঘরের স্বাদ

শনিবার বিকালে বেগুনি খালার দোকানে পিঠা কিনতে আসা ক্রেতারা (ছবি– প্রতিনিধি)

চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বগুড়ার নামাজগড় এলাকার আসাদুর রহমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে সাত দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম ফেরার আগে শহরের খান্দার এলাকায় কারমাইকেল সড়কের শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথের পাশে বেগুনি খালার দোকানে পিঠা খেতে দাঁড়িয়েছিলেন। জানালেন, বেগুনি খালার দোকানের পিঠায় ঘরের স্বাদ পাওয়া যায় বলে ১০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

আসাদুর রহমানের সঙ্গে যখন কথা চলছিল, তখন অটোরিকশায় সেখানে আসেন কাহালুর বাসিন্দা আবদুস সালাম বাবু। সঙ্গে তার ৫ বছরের কন্যা। তিনি রিকশা থেকে নেমেই ১০টি কুশলি, ৫টি চিতই আর ৫টি ঝাল পিঠার অর্ডার দেন। তিনি জানান, মেয়ের আবদার মেটাতে তাকে নিয়ে পিঠা কিনতে এসেছেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি পিঠা নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এভাবে প্রতিদিনই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে শীতের পিঠার স্বাদ নিতে বেগুনি খালার দোকানে আসেন অনেকে।

স্টেডিয়াম এলাকার পিঠার দোকানির নাম বেগুনি। তার দোকান আশেপাশের মানুষের কাছে ‘বেগুনি খালার পিঠার দোকান’ নামে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন বিকালেই চারকলের খড়িতে একসঙ্গে জ্বলে ৬টি চুলা। প্রত্যেক চুলায় বানানো হয় শীতের রকমারি পিঠা।

শুক্রবার দুই জন নারী ও একজন পুরুষকে পিঠা তৈরির কাজ করতে দেখা যায়। দোকানের তিনপাশ ঘিরে ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন। কেউ বসে, কেউবা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ক্রেতাদের হাতে পিঠা তুলে দিচ্ছেন দুই তরুণ। কেউ কেউ দোকানে বসেই পিঠা খাচ্ছেন। কেউ কেউ তা নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

শুধু বেগুনি খালার দোকান নয়, বগুড়ার জিরোপয়েন্ট সাতমাথাসহ আশপাশের সব ফুটপাতে এখন বিকাল হলেই শীতের পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে। মৌসুমী দোকানিরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে পিঠা তৈরি ও বিক্রি করেন।

ক্রেতাদের অনেকেই জানালেন, ব্যস্ত শহরজীবনে বাসাবাড়িতে এসব পিঠা তৈরিতে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই ফুটপাতের পিঠার দোকানগুলোতেই ছুটে আসেন তারা। এসব দোকানের পিঠা ঘরে তৈরি পিঠার চেয়ে স্বাদে কোনও অংশে খারাপ হয় না।

বেগুনি বেগম জানান, তিনি, তার স্বামী ইদ্রিস আলী বেপারী, সহযোগী রাবেয়া বেগম, সিফাত, করিমুল্লাহসহ আর দু’জন পিঠা তৈরি ও বিক্রি করেন। তাদের সবার বাসা শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম এলাকায়। প্রতিবছর শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়টাতে তারা পিঠা-পুলির ব্যবসা করে থাকেন।

বেগুনি বেগম আরও জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি শীতকালীন পিঠা-পুলির ব্যবসা করে আসছেন। শীত শেষে অন্য কাজ করেন।

তিনি জানান, বিকাল হলেই তারা পিঠার দোকান দিয়ে বসেন। সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে; চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। তাদের দোকানে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, ঝাল-মিষ্টি কুশলি পিঠা বানানো হয়। এর মধ্যে ভাপা প্রতি পিস ১০ টাকা, চিতই ১৫ টাকা, ঝাঁল পিঠা ১২ টাকা ও কুশলি ৭ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। কেউ কেউ আবার ঝালপিঠার সঙ্গে ডিম ভেঙে নেন। এর দাম পড়ে ২৫ টাকা।