নিহত খায়রুল জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বানিয়াচাপড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। একই গ্রামের মোস্তফা সরকারের ছেলে মোশাররফ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তর ছাতরা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন দক্ষিণ ছাতড়া গ্রামের তেঁতুলতলা এলাকায় নাগর নদীর তীর নিজের দাবি করে সেখানে শ্যালো মেশিন স্থাপন করেন। সেখান থেকে শ্রমিকের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করায় প্রায় ২০ ফুট গভীর কূপের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বেলা ১টার দিকে সেখানে কর্মরত ছিলেন শ্রমিক খায়রুল ও মোশাররফসহ তিনজন। খায়রুল মেশিনের পাইপ ঠিক করতে কূপে নেমেই অচেতন হয়ে পড়েন। মোশাররফ তাকে উদ্ধারের জন্য নামলে একই পরিস্থিতিতে পড়েন। তৃতীয় শ্রমিকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে অনেক কষ্টে বাঁশের মাধ্যমে দু’জনকে কূপ থেকে ওপরে তোলেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অচেতন দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পক্ষে আবদুল হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গভীর ওই কূপে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর বালু উত্তোলক নাসির উদ্দিনকে বারবার তার সেলফোনে চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) নাননু খান জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে; শনিবার মর্গে পাঠানো হবে। দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বালু উত্তোলনকারীর অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে জানান তিনি। থানার অপর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের দাবি, নদী থেকে নয়; বাড়ি নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগত জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছিল।