স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত ইব্রাহিমকে পুলিশের তত্ত্ববধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইব্রাহিম চরপাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকার পাড়া গ্রামের এনামুল হক সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বিজিবি। এই মামলায় ইব্রাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওয়াহেদপুর সীমান্তের দশরশিয়া বাজার এলাকা থেকে ইব্রাহিমকে ধরে নিয়ে যায় বিজিবি। এসময় স্থানীয়রা কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। তবে কোনও কারণ জানান না বিজিবি। রাতে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইব্রাহিমের স্বজনরা ওয়াহেদপুর ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্প কমান্ডার নওশেদের সঙ্গে কথা বললেও ইব্রাহিমকে ছাড়ে না বিজিবি।
পরিবারের অভিযোগ, বিজিবির সোর্স সাইফুলের সঙ্গে ইব্রাহিমের গরু ব্যবসার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আর এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসও হয়েছে। সাইফুল বিজিবিকে ভুল তথ্য দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সাইফুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তবে ইব্রাহিমের কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
গুরুতর আহত ইব্রাহিম জানান, দশরশিয়া বাজার থেকে শনিবার সন্ধ্যায় আমাকে ওয়াহেদপুর ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে বিজিবি সদস্যরা আমার চোখ বেধে সীমান্তে নিয়ে যান। পরে তারা আমার চোখ খুলে দেন এবং দুজন সদস্য আমাকে বসিয়ে গুলি চালান। এতে আমার বা’পায়ে গুলি লাগে। তিনি জানান, আমি কোনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। বরাবরই আমি গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং একজন সাধারণ গরু ব্যবসায়ী। যা এলাকাবাসীও জানেন। বিজিবির এই অন্যায় কাজের আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ঘটনায় বিজিবির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী ও তার পরিবার।
এদিকে বিজিবি বলছে, মাদক বিরোধী অভিযানের সময় মাদক কারবারীরা তাদের ওপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বিজিবি। এতে ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৪০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সরোয়ার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এক ইয়াবা কারবারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, বড় আকারের একটি ইয়াবার চালান আটকের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩, বিজিবির স্পেশাল টাস্কফোর্সের একটি দল জহুরপুর সীমান্তের সাতরশিয়া এলাকায় রাতে অপারেশন পরিচালনা করে। অপারেশন চলাকালীন ৭-৮ জনের একটি দল বিজিবির ওপর হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বিজিবি। এতে গুলিবিদ্ধ হয় ইব্রাহিম এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় ইব্রাহিমকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে ইব্রাহিমকে প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ৫৩, বিজিবির অধিনায়ককে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।