তুফানের ভাই মতিনের অবৈধ সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

মতিন সরকারবগুড়া শহর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মতিন সরকারের অবৈধ সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে তিনি ওই সম্পদ এবং ব্যাংকে সঞ্চয়ের টাকা কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ নরেশ চন্দ্র সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। তবে দুদকের পিপি আবুল কালাম আজাদ সোমবার (৪ মার্চ) বিকালে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, মতিন সরকার বগুড়ার বহুল আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের বড় ভাই। বর্তমানে তুফান বগুড়া কারাগারে আছেন। গত ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ওই ঘটনায় গত কয়েকদিন আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার জামিন নামঞ্জুর এবং মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বগুড়ার আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তুফানের এই ঘটনার পর তার ভাই শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিন সরকারকেও বহিষ্কার করা হয়। এরপর দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয় থেকে তুফান ও মতিনের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। গত ২০১৮ সালের ৬ মার্চ মতিন সরকার ও ৭ মার্চ তুফান সরকারকে চিঠি দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। মতিন ২৫ মার্চ ও তুফান ২৭ মার্চ সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

তদন্তে দুদক কর্মকর্তারা মতিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তিন কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণ পান। একইভাবে তার ছোট ভাই তুফানের বিরুদ্ধেও অসাধু পন্থায় প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণ মেলে। তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সদর থানায় মতিন ও তুফানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন।

বগুড়ায় দুদকের পিপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মতিনের মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার সম্পত্তি ও ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব স্থানান্তর বন্ধে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত উল্লিখিত আদেশ দেন। ফলে মতিন সরকার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ও ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চিত অর্থ কাউকে স্থানান্তর করতে পারবেন না।’