চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শামসুদ্দিন টগর (৪৮) হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন ও তিনজনের দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্ব জগত গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রবিউল ইসলাম ওরফে রবু (৩১)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, গোমস্তাপুর তানার পূর্ব জগতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে কাদের (৩৩), মাজেদ আলীর ছেলে সামশুল (৩৬) ও অপর দুইজন হলো নওঁগা জেলার নিয়ামত পুর থানার মঙ্গলতাড়া গ্রামের মৃত.সবদর আলীর ছেলে সাম মোহাম্মদ (৬৩) ও মৃত আতাউরের ছেলে আপেল (২৬)। এছাড়াও দুই বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, পূর্ব জগতপুর গ্রামের আইনাল (৪১)ও অপর দুজন হলো নওঁগা জেলার নিয়ামত পুর থানার মঙ্গলতাড়া গ্রামের এনামুল (৫২) ও শরিফ (৩১)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে শামসুদ্দিন টগর পাশের এনায়েতপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে রবিউল ও তার ভাই কাদেরসহ ১০/১৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় ধারলো অস্ত্র, লাঠি ও বল্লম দিয়ে শামসুদ্দিনের মাথায় ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে শামসুদ্দিন গুরুতর আহত হয়। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ভোর ছয়টার দিকে শামসুদ্দিন মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহত শামসুদ্দিনের বড় ভাই জমসেদ আলী ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ গোমস্তাপুর থানায় ২২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূর মোহাম্মদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউলকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড, অনাদায়ে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং বাকীদের বেকুসুর খালাস দেন।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর আঞ্জুমান আরা এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ,গোলাম কবির ও ইসমাঈল হোসেন।