বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিমানবন্দরে নিয়ম করা হয়েছে কোনও যাত্রীকে বিমান পর্যন্ত যেতে হলে দুবার দেহতল্লাশি এবং লাগেজ স্ক্যানিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকার সময় একবার এবং ডিপার্চার লাউঞ্জ হয়ে টার্মিনালে পৌঁছানোর সময় আরেকবার। কিন্তু রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ কমিশনার (ডিসি) আবু আহাম্মদ আল মামুন বিমানবন্দরে প্রবেশ করে ডিপার্চার লাউঞ্জ না হয়ে ভিআইপি লাউঞ্জের দিকে যেতে চান। সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মীরা এসময় তাকে তল্লাশি করতে চাইলে মামুন নিজের পরিচয় দিয়ে তল্লাশি ছাড়াই ভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে বিমানে গিয়ে ওঠেন। ডিসিকে তল্লাশি করতে চাওয়ায় সিটিএসবির সদস্য জালাল উদ্দিন সিভিল অ্যাভিয়েশনের ওই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাকর্মীর গায়ে হাত তোলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা সুপারভাইজার সেখানে ছুটে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান সেখানে উপস্থিত থাকলেও তিনি তখন নিশ্চুপ ছিলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশন তখন ঘোষণা দেয়, ডিসি মামুনের তল্লাশি ছাড়া বিমান ছাড়বে না। বাধ্য হয়ে ডিসি মামুন বিমান থেকে নেমে আসেন। রানওয়ের পাশেই তাকে তল্লাশি করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় বিমানবন্দরে দায়িত্বরত পুলিশ ও সিভিল এভিয়েশন। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে গিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসায় বসেন। সেখানে সিটিএসবির কনস্টেবল জালাল উদ্দীনকে সিভিল অ্যাভিয়েশনের ওই নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। তবে, ঘটনাটি নিয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মীদের মাঝে এখনও অসন্তোষ রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘‘আগে নিয়ম ছিল একবার চেকিং। এখন দ্বিতীয়বার করা হয়েছে। সেটা মামুন স্যার জানতো না। এতে করে স্যার আগের মতো করে বিমানে উঠতে গেলে তাকে অবহিত করা হয়। তখন তিনি পরিচয় জানিয়ে বলেন, ‘বিমানের সময় কম আছে। তাই তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।’ পরে অবশ্য তিনি দ্বিতীয়বার চেকিং করে বিমানে ওঠেন। এসময় সিটিএসবির কনস্টেবল জালাল উদ্দীন সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মীদের বলেন, ‘আপনারা তো আমাদের স্যারকে চেনেন। তারপর সময়ও কম, দ্বিতীয় চেকিং করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।’ এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।’ বৃহস্পতিবার সকালে আরএমপির শাহমখদুম জোনের ডিসি সুজায়েত ইসলাম ও তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলেন। সেখানে কনস্টেবল জালাল উদ্দিন এই ঘটনার জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর তার সঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মীদের মিটমাট করা হয়।
বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান বলেন, ‘সামান্য ঘটনা ঘটেছিল। তা পরে ঠিক হয়ে গেছে। আসলে তিনি (আবু আহাম্মদ আল মামুন) অনেক দিন বিমানবন্দরে আসেননি। তাই দ্বিতীয় চেকিংয়ের কথা জানতেন না। তবে, তিনি পরে অবহিত হয়ে দ্বিতীয় চেকিং করেছেন। কিন্তু, এ ঘটনার গন্ডগোল লাগিয়েছিল সিটিএসবির কনস্টেবল জালাল উদ্দীন ও আমাদের নিরাপত্তাকর্মীরা। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির পর বিষয়টি উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করা হয়েছে। এ নিয়ে আর কোনও অসন্তুষ্টি নেই। নিউজ করার মতো ঘটনা না।’
বিমান থেকে পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে নামিয়ে দ্বিতীয়বার তল্লাশি প্রসঙ্গে সেতাফুর রহমান আমতা আমতা করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘স্যারকে বিমান থেকে নামিয়ে দ্বিতীয়বার চেকিং করা হয়নি। তিনি অবহিত হওয়ার পরই দ্বিতীয়বার চেকিং করে বিমানে উঠেছিলেন।’