গাইবান্ধায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ৫, আহত ১৫

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বরকত পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাস উল্টে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ যাত্রী। শনিবার (৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ৩টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের কোমরপুর (কালিতলা) এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

noname

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরকত পরিবহনের যাত্রীবাহী ওই বাসটি  বুড়িমারী যাচ্ছিলো। কালিতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশের ধানের জমিতে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই বাসে থাকা ৫ জন যাত্রী নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। বাস থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাসের ভিতরে আরও লাশ থাকতে পারে। কিন্তু বাসটি উল্টে যাওয়ায় ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। বাসটি উল্টে যাওয়ায় উদ্ধার কাজে সময় লাগছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। উল্টে যাওয়া বাসে চাপা পড়ে থাকা ৫  জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৪টা) উদ্ধার তৎপরতা চলমান ছিল।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারলেও বাসের অধিকাংশ যাত্রী শ্রমজীবী মানুষ বলে জানান ওসি মেহেদী হাসান। এ দুর্ঘটনার জন্য চালককেই দায়ী করেন তিনি। বলেন, চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রতন  জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি উল্টে যায়, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত উল্টে যাওয়া বাস থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাসের ভিতরে আরও লাশ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাসে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আগে বগুড়াতে বাসের চালক পরিবর্তন হয়। নতুন চালক উঠেই বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন। কয়েকবার নিষেধ করার পরেও চালক যাত্রীদের কথা মানেননি তিনি।