তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই রহিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রিমান্ডের চতুর্থ দিন পর্যন্ত রবিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এসব প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
গ্রেফতারের দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন জানিয়েছেন, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালের স্টোর কিপার, নার্স, চিকিৎসক ও সরবরাহকারীরা ওষুধগুলো বিক্রি করছেন। এসব ওষুধ বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকরা কিনে থাকেন। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগিরা ওষুধ পাননা।
বগুড়ার ড্রাগ সুপার আহসান হাবিব জানান, শহরের সাতমাথায় খান মার্কেটের চতুর্থ তলায় পুরাতন টিভি ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে রেমেক্স ল্যাব নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম রয়েছে। ওই গুদামে ডিএআর নম্বর বিহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী মুজদ করা হয়। গোপনে খবর পেয়ে ৩ এপ্রিল বিকালে আর্মড পুলিশের সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। ওই গুদামে গিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন নামের মিস ব্র্যান্ড (যৌন উদ্দীপক) ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট, মেডিকেটেড শ্যাম্পু ও সোপ পাওয়া যায়। এছাড়া সেখানে স্থানীয়ভাবে মুদ্রিত বিদেশি ওষুধের মোড়ক ও বিএসটিআইয়ের ভুয়া অনুমোদনের কাগজও পাওয়া গেছে। এসব জব্দ এবং শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল মোমিন নামে দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। পরে সদর থানা পুলিশ তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অভিযানের সময় মার্কেটের অধিকাংশ দোকান বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সামির হোসেন মিশু জানিয়েছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরবরাহ করা ওষুধ হাসপাতালে পৌঁছার আগেই অসাধু চক্র বিক্রি করে দেয়। তদন্তে কারও নাম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্ধ এসব দোকানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ও যৌন উদ্দীপক ওষুধ রয়েছে। এই মার্কেটে আগেও অনেকবার টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়েছে। ড্রাগসুপার লাঞ্ছিতও হয়েছেন। অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা ওষুধ প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। মন্ত্রণালয়ে তদবির করে অনেককে বদলিও করেছে।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বগুড়া শখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম জিয়াউল হক বাবলা জানান, মফিজ পাগলার মোড় থেকে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি ওষুধসহ গ্রেফতার মিজানুর রহমান রবিন তাদের সংগঠনের সদস্য নন। এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আসাদ বগুড়ার খান মার্কেটের চতুর্থ তলায় দোকান ভাড়া নিয়ে অবৈধ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত আসাদকে না পেলেও তার দুই কর্মচারী শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল মোমিনকে গ্রেফতার এবং জেল-জরিমানা করেছেন। আসাদ ও তার প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবিলম্বে অবৈধ ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।