আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর গ্রুপের দুই কর্মী আফতাব ও রতন কুমার নিহত হয়। এ ঘটনায় আফতাবের ছেলে বাদী হয়ে দু’জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের ৪৭ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় পলাতক থাকার পর রবিবার তারা আদালতে আত্মসর্মপণ করলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মিনফুজুর রহমান মিলন। একইভাবে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধীতা করেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হাবিব লজিক ও উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরও এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
নির্বাচনে ওই ইউপি চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে অবস্থান নেয় জাসদের উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে। এমনকি নির্বাচনের দিনও তারা দলবল নিয়ে জাসদের মশাল মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট আদায়ের চেষ্টা করেন। যার জের ধরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উভয়পক্ষে স্থানীয় মোসলিমগঞ্জ বাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ১১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে প্রাথমিকভাবে তাদের এই সংঘর্ষ থামানো হলেও ১৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে ওই অঞ্চলের হাট পুকুর এলাকায় উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমানের সমর্থকদের আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা চেয়ারম্যানের দুই কর্মী আফতাব ও রতন মোহন্ত নিহত এবং ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান গ্রুপের নিহত কর্মী আফতাব হোসেনের ছেলে গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে এজাহারভুক্ত ৪৭ জনসহ অজ্ঞাত দেড়শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।