চরে মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুরা

চরের শিশুরাবগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের যমুনার চরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই চরের শিশুদের শিশুদের লেখাপড়ায় ইতি টানতে হচ্ছে। এরপর অভিভাবকরা মেয়েদের বাল্য বিয়ে এবং ছেলেদের ঢাকায় গার্মেন্টসে বা অন্য কোথায় কাজ করতে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। চরের বাসিন্দারা চর দু’টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ চরাঞ্চলে। অধিকাংশ মানুষ চরে বসবাস করেন। তাদের অনেকের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরের অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন। আবার প্রকৃতির নিয়মে চর জেগে উঠলে সেখানে নতুন করে বসতি গড়া হচ্ছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রহ করে বেঁচে থাকেন। তাদের দু’মুঠো ভাত ও পোশাকের সমস্যা না হলেও তারা শিক্ষা এবং ভালো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরলিয়া চরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন, বদিউজ্জামান, সুশান্ত কুমার প্রমুখ জানান, চরে মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারছেন না। ফলে অধিকাংশ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার পর পরিবারের সদস্যদের বোঝা হচ্ছে। কেউ তাদের শিশু মেয়েকে বাল্য বিয়ে আর ছেলেদের শিশুশ্রমে পাঠাচ্ছেন। শিশুদের কেউ ভ্যান চালক, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের শ্রমিক হচ্ছে। আবার ঢাকায় স্বল্প বেতনে গার্মেন্টস শ্রমিক করা হচ্ছে।

পাকুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত বলেন, তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের সন্তানরা বন্যার সময় নৌকায় এবং শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর হেঁটে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পাকুল্লা উচ্চ বিদ্যালয় ও পাকুল্লা রাহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এসে লেখাপড়া করে।

চরের শিশুরাতেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছামছুল হক জানান, শুষ্ক মৌসুমে চরের ছেলেমেয়েরা অতিকষ্টে যমুনা নদী অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে আসে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে তারা সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্ট সহ্য করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পাড় হয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিমপাড়ে এসে লেখাপড়া করে।

দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, উচ্চ শিক্ষার জন্য চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজার রহমান জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে না। এমনকি চরাঞ্চলে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সচেতন মহল উদ্যোগও গ্রহণ করে না। এ কারণে চরাঞ্চলে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। এতে চরাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝড়ে পড়ছে। এমনকি অভাবী, অশিক্ষিত বাবা-মায়ের মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই বাল্য বিয়ে দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে স্থানীয়দের। আমরা শুধু সহযোগিতা করবো।