বগুড়ার শেরপুরে দুই দল চরমপন্থীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তাদের দুই সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ৮ রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি ও তিনটি পোস্টার পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অর্জুনী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিটন সরকার (৩৫) ও তাড়াশ উপজেলার পশ্চিম পাইকড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আফসার আলী (৪৮)।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর দুই দল চরমপন্থীর মাঝে গোলাগুলি চলছিল খবর পেয়ে শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবিরসহ পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তাদের পাশে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড ওয়ান শুটারের গুলি, দুটি চাপাতি ও চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির তিনটি পোস্টার পড়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরা নিজেদের নাম লিটন ও আফসার বলে জানায়। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় এসআই আতিকুর রহমান মামলা করেছেন। লাশ বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল পাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে ১৪ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এর বিরোধিতা করে কয়েকজন চরমপন্থী ৮ এপ্রিল রাতে বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুর বাজার এলাকায় পোস্টারিং করছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ছয় শতাধিক সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন। মার্কসবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ।’ শেরপুর থানার একটি টহল দল টের পেয়ে সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চরমপন্থীরা গুলিবর্ষণ করে। ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এএসআই নান্নু মিয়া (৪২) আহন হন। ঘটনাস্থল থেকে চরমপন্থীদের লাগানো কিছু পোস্টার এবং ‘গণযুদ্ধ’ নামে একটি পত্রিকাও উদ্ধার করা হয়। পরে গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নান্নু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তার পা কেটে ফেলতে হয়েছে।