জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় শুক্রবার (৩ মে) বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। শনিবারও (৪ মে) কখনও মুষলধারে আবার কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। এতে অধিকাংশ মাঠেই নিচু জমিগুলোয় বোরো ক্ষেতে পানি জমে যায় এবং ঝড়ের কারণে বেশির ভাগ ধানগাছ পড়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁয় ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমার বোরো ক্ষেতে বৃষ্টি পানি জমে আছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান গাছ পড়ে গেছে। ক্ষেতের পাকা ধানের শিষগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। আমি জমির আইল কেটে পানি বের দেওয়ার চেষ্টা করছি। পানি বের না হলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’
একই অবস্থা নওগাঁ সদর উপজেলা,ধামইরহাট,মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে।
মান্দা উপজেলার গণেশপুর গ্রামের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন, ‘দুই দিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় মাঠের অধিকাংশ বোরো ধানের গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ক্ষেতে পানি জমে গেছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক খরচও বেশি পড়ে যাবে।’
নওগাঁ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কিছু কিছু বোরো ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং ক্ষেতে পানি জমে গেছে। তবে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি না। কৃষকেরা ক্ষেতের আইল কেটে পানি বের করে দিচ্ছে যার ফলে আর ধান নষ্ট হবে না।’
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, মান্দায় বিল এলাকার মাঠগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেতের ধানই কাটা হয়েছে। বিলগুলো থেকে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধানগুলো কিছুটা নষ্ট হতে পারে। এছাড়া উঁচু জমিগুলোয় পানি জমলেও দ্রুত পানি নেমে যাবে। ফলে ওই সব মাঠে খুব বেশি ধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ফণীর প্রভাবে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব এখনও নিরূপণ করা যায়নি। তবে টানা রোদ হলে বোরো ধান কিংবা অন্যান্য ফসলের তেমন কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।