সেতুর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা

ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় বাঙালি নদী পারাপার (ছবি– প্রতিনিধি)

বছরের পর বছর ধরে বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদীর সলুরঘাট অংশে স্থানীয়রা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলে আজও তা নির্মিত হয়নি। এতে প্রায় ২০ গ্রামের তিন লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয় তাদের। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে ও হতাহত হওয়া রোধে তারা অবিলম্বে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের পোড়াপাইকর এলাকায় বাঙালি নদীর সলুরঘাট অংশ। বর্তমান সরকারের শাসনামলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই নদীর ডান তীর সংরক্ষণের কাজ হয়েছে। সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার ২০ গ্রামের প্রায় তিন লাখ মানুষ ওই খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। ওই খেয়াঘাটে ডিঙি নৌকা দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে ডুবে কিছু মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডিঙি নৌকায় পারাপার কম ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষকজীবী। বাঙালি নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের লোকজন কোনও রকমে ডিঙিতে চলাচল করতে পারলেও কৃষকদের জন্য তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে চলাচলটা কঠিন।

এ ব্যাপারে পোড়াপাইকর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, সাজু মিয়া, মুশফিকুর, তারিন ও বিথী খাতুন প্রমুখ জানান, এই এলাকা কৃষিপ্রধান। এ অঞ্চলের কৃষকেরা সারাবছর ফসল উৎপাদন করেন। তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, গম, আলু, মরিচ নিয়ে বাঙালি নদী পারাপারের সমস্যা হয়। এতে তারা বাড়ি বা জমিতেই স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেক সময় মহাজনের অপেক্ষায় ফসল জমিতেই ফেলে রাখতে হয়।

তারা আরও জানান, বাঙালি নদী পারাপার হতে গিয়ে নৌকাডুবিতে সারিয়াকান্দির শিমুলতাইড় চরের দিনমজুর তারাজুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও তার শিশু কন্যা তারমিনসহ গত কয়েক বছরে ৫-৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট। এই খেয়াঘাট দিয়ে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দির কয়েক লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ওই খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।