বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিভাগেই যে বিষয়গুলো পড়ানো হচ্ছে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর সঙ্গে বিভাগের একটি সাদৃশ্য থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা কেন বিষয়গুলো পড়বে এবং সেগুলো পাঠের মূলনীতি, শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ, পাঠদান পদ্ধতি, আলোচ্যসূচি, ব্যবহার্য পাঠ্যপুস্তক, মূল্যায়ন কৌশল এবং বাস্তব জীবনে বিষয়গুলো থেকে অর্জিত জ্ঞান কতটুকু কাজে লাগাতে পারবে তা সম্পর্কে কারিকুলামে উল্লেখ থাকবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগগুলোর সিলেবাসে কেবল শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ, আলোচ্যসূচি, ব্যবহার্য পাঠ্যপুস্তক ও মূল্যায়ন কৌশল রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেরই পাঠদানের কোনও কারিকুলাম নেই। ব্যবসায় অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোসহ হাতে গোনা কয়েকটি বিভাগে কারিকুলাম থাকলেও তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে বিভাগগুলো গতানুগতিক সিলেবাসেই তাদের পাঠ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক বলছেন, দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলামবিহীন পাঠদান হতাশাজনক। কারিকুলাম পাঠন-পঠন কার্যক্রমের প্রধান চালিকা শক্তি। যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক উপায়ে পাঠদানে পরিপূর্ণ কারিকুলাম প্রণয়নের বিকল্প নেই বলে মত দেন তারা।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল বলেন, ‘বিভাগগুলোতে সিলেবাসভিত্তিক যে পাঠদানের পদ্ধতি চালু রয়েছে তা পরিবর্তন করতে একটু সময় লাগবে। তবে আমরা প্রতিটি বিভাগেই কোর্স কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষকদেরই এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় আমরা প্রতিটি বিভাগের চার-ছয়জন শিক্ষক নিয়ে ৮০টিরও বেশি কারিকুলাম সংক্রান্ত সেমিনার করেছি। ইতোমধ্যেই কয়েকটি বিভাগ কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে। যেই বিভাগগুলো বাকি আছে সেখানে শিগগিরই কারিকুলাম প্রণয়ন করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম না থাকা দুঃখজনক। বর্তমান প্রশাসন কারিকুলাম প্রণয়নের ব্যাপারে খুব সচেতন। ইতোমধ্যে আইকিউএসসির মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষকদের কারিকুলামের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সবগুলো বিভাগে কারিকুলাম প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।’