বগুড়ায় কাপড় ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী ও শ্যালক আটক

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কাপড় ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম রতন (৪৫) হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী রূপা আকতার ও শ্যালক রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল-আমিন ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুব্রত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশ উপজেলার কর্নিবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর চর কুমারপাড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত ফেরদৌস সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে।

গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, ফেরদৌস আলম ১৭ বছর আগে দেবডাঙ্গা গ্রোয়েন বাঁধে বসবাসকারী ধলু মেম্বরের মেয়ে রূপা আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। ফেরদৌস বগুড়া শহরের নারুলী এলাকায় তৈরি পোশাকের ব্যবসা করতেন। ঈদের আগে বাড়িতে এসে তিনি আর দোকানে ফিরে যাননি। বুধবার সন্ধ্যার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে যমুনা নদীর চর কুমারপাড়ায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসিড বা অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ দিয়ে তার চোখ ঝলসে দেওয়াসহ মাথায় ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের বাবা মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগ করে বলেন,‘তার ছেলে রতনের দু’জন বন্ধু ছিল। তাদের একজন মথুরাপাড়ার শহীদ কবির ও অন্যজন বগুড়ার শাজাহানপুরের উদ্দিরগোলার বাস চালক বিপ্লব। তাদের সঙ্গে তার ছেলের বউ রূপার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার ধারণা, প্রেমে বাধা দেওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।’

অন্যদিকে রূপা আকতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্বামীর বন্ধু হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। তবে  সেটা প্রেমের সম্পর্ক না। তিনি ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে রতনকে (স্বামী) বড়ইকান্দি গ্রামে বাড়ি করে দিয়েছিলেন। পরে ওই ঋণের টাকা পরিশোধও করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল-আমিন ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুব্রত জানান, নিহতের বাবার মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী রূপা আকতার ও শ্যালক রফিকুল ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে। শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং ঘাতকদের গ্রেফতার করা হবে।