পরীক্ষার হলে ৫০ ছাত্রের চুল কেটে দিলেন দুই শিক্ষক!

চুল কেটে দেওয়া ছাত্রদের কয়েকজনবগুড়ার ধুনটে পরীক্ষা চলাকালে ৫০ জন ছাত্রের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন দুই শিক্ষক। এতে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা পরীক্ষা বর্জন করেছে। শনিবার (২৯ জুন) সকালে ধুনট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শনিবার ধুনট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে বর্ষ মধ্য পরীক্ষা চলছিল। সকাল ১০টায় নবম শ্রেণির গণিত-১ ও দশম শ্রেণির গণিত-২ পরীক্ষায় প্রায় ৯০জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা পর বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর সাজ্জাদ হোসেন ও রিক্তা আকতার শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন। তারা প্রথমে পরীক্ষার্থীদেরকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এরপর কাঁচি দিয়ে তাদের মাথার সামনের চুল কেটে দেন।

নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ও রিক্তা আক্তার কক্ষে ঢুকে তাদের গালিগালাজ ও মারধরের পর কাঁচি দিয়ে মাথার চুল আঁকা-বাঁকা করে কেটে দেন। তাই তারা পরীক্ষা বর্জন করে বাড়িতে চলে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ইন্সট্রাক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, ছাত্ররা মাসের পর মাস চুল কাটেনা, ঠিকমত স্কুলে আসেনা। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সবাইকে চুল কাটতে বলা হয়, অন্যথায় শনিবার (২৯ জুন) ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু, কেউ কথা না শোনায় বাধ্য হয়ে ৫০ জনের মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এরপর কেউ-কেউ পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে। তবে, আমরা কোনও ছাত্রকে মারধর বা শরীর কেটে দেইনি। শুধু চুল কেটে দিয়েছি; তাই এটা কোনও অপরাধ নয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুর রহমানকে অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ্ হেল বাকী জানান, তার প্রতিষ্ঠানে শনিবার এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। ছাত্ররা সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ্ জানান, পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’