বিপুল কুমারের সাজার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বদলি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিভাবকেরা জানান, সহকারী শিক্ষক বিপুল প্রায়ই ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন। এছাড়া তাদের সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কথাবার্তা বলতেন। অভিভাবকদের কয়েকজন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন। তখন বিপুলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তবে সে সময় বিপুলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় বিপুল পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এরপর বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় মাঠে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে দেন সহকর্মীরা। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের ঘিরে রেখে স্লোগান দেন। এ সময় অন্য শিক্ষকেরাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা চালায়। লোকজনের বাধায় ব্যর্থ হয়। লোকজন ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে অনড় থাকেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিউল ইসলাম অভিযুক্ত শিক্ষককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হচ্ছিল। কিন্তু, স্থানীয়দের দাবিতে সেই স্কুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত করা হয়। বিকাল ৩টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর তাকে সেখান থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।