ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক (ছবি– প্রতিনিধি)

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএফএম আঞ্জুমান আরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. এএফএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘প্রকৌশলী আশরাফুল হক দাফতরিক কাজে ঘন ঘন রাজশাহী-ঢাকা যাতায়াত করেন। এরই মধ্যে হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করেন। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণও অনুভব করেন। এ অবস্থায় তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপরই বৃহস্পতিবার আশরাফুল হকের ডেঙ্গুতে আক্রান্তের বিষয়টি চিকিৎসক নিশ্চিত করেন।’

রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আশরাফুল হক রাজশাহী না ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার অবস্থা গুরুতর নয়। এজন্য নগরীর উপশহরের নিজ বাসাতেই তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন ছবিও (৪২) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।’

এদিকে, মশক নিধন বিষয়ে রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী শেখ মামুন ওরফে ডলার বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এজন্য আমরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝোঁপ-ঝাড় পরিষ্কার করছি। সেইসঙ্গে নগরবাসীকে সচেতন করছি।’

ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম কবে চালু হবে, এই প্রশ্নের জবাবে শেখ মামুন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। তবে ফগার মেশিনের ওষুধ ঢাকায় বলছে অকার্যকর। তাই আমরা মশার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করছি। আশা করি, রাজশাহীতে তেমন সমস্যা হবে না।’  

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাসিকের উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বিশেষ সভা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা থেকে আগত ট্রেন ও বাসে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে উৎসস্থল ধ্বংসকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, রাসিক কর্তৃক ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে ইত্যাদি।

সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন রাসিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ছাড়া, জনসচেতনামূলক আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ, মসজিদে জুম্মার নামাজ এবং ওয়াক্তিয়া নামাজের আগে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার, স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার, কেবল নেটওয়ার্কে প্রচার, ৩০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, দুইজন মেডিক্যাল অফিসারের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ ও কাউন্সিলরদের তদারকিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যহত রয়েছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর ব্যাপারে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ির আঙিনা ও এর আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশক নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ স্প্রের কার্যক্রম শুরু হবে।’

প্রসঙ্গত, প্রথম দিকে রাজশাহীতে যেসব ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে তাদের সবাই এসেছিলেন ঢাকা থেকে। কিন্তু ইতোমধ্যে একজন সাংবাদিকসহ দুইজন রোগীকে পাওয়া গেছে যারা আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহীতেই। গত ১৫ জুলাই থেকে আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) পর্যন্ত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মোট ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৯ জন। রামেক হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ৫২ জন। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন।