শিবগঞ্জ আড়গাড়া হাটের পশু বিক্রেতা আব্দুল কাদের লতিফ বলেন, ‘মূলত পশু খাদ্যের চড়া দামের কারণে গরু-ছাগলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ছোট খামার থেকে আনা আটটি গরুর মধ্যে একটি ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। বাকিগুলো এখনও রয়ে গেছে।’
একই হাটের গরুর পাইকার আবু মণ্ডল বলেন, ‘হাটে গরু সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। ভারত থেকে গরু না আসায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছর হাজার হাজার গরু আসে ভারত থেকে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।’
নাচোলের সোনাইচণ্ডির হাটে গরু ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ‘এবার বাজার মন্দা। তেমন ক্রেতা নেই হাটে। ভারতীয় গরু না থাকায় হাট যেন নিষ্প্রাণ।দেশীয় গরু হাটে থাকলেও, দাম শুনে মুখ বেজার করে ক্রেতারা উল্টো পথে হাঁটছেন।’
সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারতীয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় দেশি গরুর দাম বেশি হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। যে গরু গতবার মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১৬-১৮ হাজার টাকায়, এবার তা মণপ্রতি ২৫-২৮ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। যেটা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য কষ্টকর।
নোয়াখালীর ব্যাপারী সাজ্জাদুর ও চট্টগ্রামের ব্যাপারী রাকিবুল জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষা, তর্তিপুর ও খাশের হাট থেকে কোরবানির পশু কেনেন। কিন্তু এবার চাহিদা অনুযায়ী তারা গরু কিনতে পারছেন না। চড়া দামে গরু কিনে শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে না পারলে বিপদে পড়বেন।
হাটে গরুর সংখ্যা কম হলেও সংকট হবে না বলে দাবি করেছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনন্দ কুমার অধিকারি জানান, সদরসহ জেলার পাঁচ উপজেলায় খামারে গরু রয়েছে ৮৭ হাজার ৯৪৪টি। ভারত থেকে গরু না আসায় এবার খামারি ও ব্যবসায়ীরা যথাযথ দাম পাবেন। এতে আগামীতে খামারিরা গরু-ছাগল পালনে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন।
হাটের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট কমিটির নেতারা। তর্তিপুর হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম ও মনাকষা হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজ্জামেল হক জানান, হাটগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও বাইরের ব্যাপারীদের জানমালের নিরপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।