গ্রেফতার তিন জন হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার শিরোইল এলাকার আলামিন ওরফে রুবেল (২০), চারঘাটের চরমোক্তারপুর সরকারপাড়ার রকি (২৬) ও মোক্তারপুর এলাকার মিলন (২৫)।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে ছিনতাই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার সবাই অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ কাজ করে আসছিল। উদ্ধার অটোরিকশা তারা রাজশাহী নগর এলাকা থেকে ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় চারঘাট মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এদিকে রাজশাহী নগরীতে সোমবার দুপুরে দুই লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় এ ঘটনার ফুটেজ দেখে শনাক্তের পর সোমবার পাঁচ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ। তাদের কাছে থেকে ছিনতাই হওয়া এক লাখ ৩১ হাজার টাকা উদ্ধারও করা হয়েছে।
আটক ছিনতাইকারীরা হলেন- ফজলে রাব্বি (২৪), উজ্জ্বল ওরফে কটা (২৩), রিয়াজ (২৬), জীবন ওরফে রাজু (২৪) ও মিঠু (২৮)। এদের মধ্যে মিঠু বাদে সবার বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে।
পবা উপজেলা মাছচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি সাদিকুল ইসলাম জানান, ‘মেসার্স সাঈদ ফিসারিজ ফার্ম’ নামে তার মাছের খামার রয়েছে। শনিবার তার খামারের ম্যানেজার গোলাম সারোয়ার ও মাহাবুব ঢাকা থেকে মাছ বিক্রি করে বাসায় ফিরছিলেন। তারা দুপুর সোয়া ৩টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে নওহাটা যাওয়ার উদ্দেশে ব্যাটারিচালিত অটোতে ওঠেন। সেখানেই অপর পাঁচ ব্যক্তি ওই অটোতে যাত্রীবেশে ওঠেন। অটোটি নগরীর শালবাগানে পৌঁছালে যাত্রীবেশী ৫ ছিনতাইকারী সারোয়ার ও মাহবুবের কাছে থাকা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নগরীর বিসিক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শামীম বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সারোয়ার ও মাহাবুবের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। এ কারণে সন্দেহ করা হচ্ছিল, তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে খামারের ম্যানেজার সারোয়ার বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। এরা এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী। আগে থেকেই মামলাও আছে। তবে এ ঘটনায় মামলার পর আটকদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।