একই স্থানে একই সময়ে আ.লীগের দুই পক্ষের কর্মসূচি, উত্তেজনা

বগুড়া

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় একই স্থানে একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পৌর আওয়ামী লীগ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ। আগামীকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডাকা এ কর্মসূচিকে ঘিরে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, আগামীকাল (বুধবার) সকাল ৮টায় বাসস্ট্যান্ডে শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করে নন্দীগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগ; যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন রানাকে প্রধান অতিথি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই স্থানে একই সময়ে শোক দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি; যাতে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামকে প্রধান অতিথি ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান এবং উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি দুলাল চন্দ্র মহন্তকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, ‘আট ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ২৪ আগস্ট এক সভায় আমরা বাসস্ট্যান্ডে শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিই। গতকাল (সোমবার) হঠাৎ ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন আমাদের নির্ধারিত সময় ও স্থানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছি। তাই যেকোনও মূল্যে আমরা কর্মসূচি পালন করবো।’

নন্দীগ্রাম উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দুলাল চন্দ্র মহন্ত বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাই ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে অনুমতি চেয়ে আগেই থানায় দরখাস্ত দেওয়া হয়। পরে পৌর আওয়ামী লীগও দরখাস্ত দিয়েছে। সে যাইহোক, আমাদের কর্মসূচি পালন করা হবে।’

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই গ্রুপকে সমঝোতা করে আলাদা সময়ে কর্মসূচি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তা না হলে ওই স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির জানান, দুই পক্ষকে আলোচনা করে পৃথক সময়ে কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে। সমঝোতা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শারমিন আকতার। তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। তারা রাজি না হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে।’