ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌরসভাসহ ১০ ইউনিয়নে ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ৫২ হাজার ৬৮ জন কৃষক বোরো ধান চাষ করেন। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। লোকশান দিয়ে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এ কারণে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকার নির্ধারিত মূল্য ধান ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি। গত ২৭ মে লটারির মাধ্যমে প্রথম দফায় এক মেট্রিক টন করে ৫০২ জন কৃষকের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান কেনে খাদ্য বিভাগ।
তবে দ্বিতীয় দফায় কোনও লটারি করা না হলেও ৮৩৫ মেট্রিক টন ধান কিনতে এক হাজার ৬৭০ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান কেনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৬৭০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়।
এরপর থেকে কোনও নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই ধান কেনা বন্ধ করে ওদয়া হয়। এতে ধান নিয়ে তালিকাভুক্ত ৩৩০ জন কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে চৌকিবাড়ী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী ও জাহানারা খাতুন বলেন, তালিকাভুক্ত কৃষকদের কোনও নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ করে ধান কেনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেক দূর থেকে গাড়ি ভাড়া করে ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে এলেও তারা আমাদের কাছ থেকে ধান নেননি। এতে আমাদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।
ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য শিক্ষক ময়নুল করিম লিটন জানান, তাদের ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চাষাবাদ বেশি হয়। ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হলেও ওই সব ওয়ার্ডে কৃষকের সংখ্যা বেশি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তার নাম তালিকাভুক্ত হলেও তিনি ধান বিক্রি করতে পারেননি। তালিকাভুক্ত কৃষকদের নাম কেটে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্য বিভাগে ধান বিক্রি করবেন এমন কৃষকের তালিকা তৈরি করে উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। এরপর তারা চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে ধান কেনা শুরু করেছেন।
উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান, ধুনট উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সিদ্ধান্তে কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ধুনট উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, কোনও কারণে ধান-চাল কেনা বন্ধ করা হলে তা কৃষকদের আগেই জানানো উচিত ছিল। কেন ধান-চাল ক্রয় বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান-চাল কেনার সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে ধান-চাল কেনা বন্ধ করা হলে অনিয়ম করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।