দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আমবাজার। আম মৌসুমে সেখানে প্রতিদিনই কয়েক কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়। মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকলেও, এবারের চিত্র ভিন্ন। বাজারে আমের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও, ক্রেতা নেই।
সাধারণত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষ হয় আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে। তবে এবার আশ্বিনা আমের যত্ন নেওয়ায় বাজারে আম পাওয়া যাবে পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই।
সরজমিনে কানসাট আমবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মণ প্রতি আশ্বিনা আম বিক্রি হচ্ছে চার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। আম চাষিরা জানান, ঝিনুক আশ্বিনা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও ফ্রুট ব্যাগিংকৃত আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে।
বিগত বছরগুলোর মতোই এবারও আম চাষ করে হতাশ এই আম চাষি আরও জানান, ভারতীয় আম আমদানি না হলে তারা লাভবান হতে পারতেন।
কানসাট বাজারে আম বিক্রি করতে আসা বাগান মালিক নাজমূল হক জানান, এখনও তার বাগানে প্রায় ১০০ মণ আম রয়েছে। আশায় ছিলেন সে আম বিক্রি করে গত কয়েক বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বর্তমান বাজার মূল্যে হতাশ তিনি। বাজারে দুই ভ্যানে ১৬ মণ আম আনেন বিক্রির জন্য। সবগুলো আমই বিক্রি করেছেন মণ প্রতি সাড়ে চার হাজার টাকায়।
রফিকুল, নাজমুলের মতো আরও বেশ কয়েকজন আম বাগানি ও আম চাষি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে ভারতীয় ‘চোষা’ আম। গত এক মাস ধরে ভারতীয় আমের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কমে এসেছে দেশীয় আমের মূল্য।
তারা বলেন, যদি ভারতীয় আম আমদানি না হতো, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতি মণ আশ্বিনা আম বর্তমানে বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়।
বাইরে থেকে আম কিনতে আসা ব্যাপারীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাজারে আমদানি বেড়ে গেছে ভারতীয় চোষা আমের। এতে দেশীয় আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় আশ্বিনা আমের এই দরপতন। তারা যারা দীর্ঘদিন কানসাট আম বাজার থেকে আম কিনে ব্যবসা করেন তারা এখন বেশি দামে আম কিনতে ভয় পাচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবীব বলেন, ‘এবার জেলায় আমের সামষ্টিক উৎপাদন অনেক কম ছিল। সে হিসেবে আগাম জাতের গুটি আমের দাম চাষিরা কিছুটা পেলেও, প্রত্যাশা অনুযায়ী আশ্বিনা আমের দাম (বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী) মণ প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কম। এর পেছনে একমাত্র কারণ ভারতীয় আমের অবাধ আমদানি।’
আশ্বিনা আমের নায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হুদা বলেন, ‘একথা সত্য যে বিদেশ থেকে এই সময় কিছু আম আমদানি হচ্ছে। এতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় আশ্বিনা আমের দাম কমে গেছে। চাষিরা তাদের উৎপাদন করতে যেমন পয়সা খরচ করছেন, তেমনি এটা বিক্রি করে যাতে কিছু মুনাফা করতে পারে সেটা অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করবো এবং আম মৌসুমে যাতে বাইরের আম বেশি আমদানি না হয় সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’