বগুড়ায় হত্যা মামলার আসামির পক্ষ নেওয়ায় অতিরিক্ত পিপি প্রত্যাহার




বগুড়া জজ আদালতবগুড়ার একটি হত্যা মামলার পলাতকসহ সব আসামিকে বাঁচাতে পক্ষাবলম্বনের ঘটনায় দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি শাহাদত হোসেন-২-কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বগুড়ার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল মতিন (১১ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত (স্মারক-১১/১৯) নেন। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

সিদ্ধান্তের অনুলিপি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, সচিব, সলিসিটর, বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ, দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে পিপি আবদুল মতিন উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র বনাম আসামি অলি প্রামাণিক গং-এর হত্যা মামলাটি (নং-৩০১/০৭) রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য শাহাদত হোসেন দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করলে আদালত তাদের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করেন। মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত পিপি আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে পলাতক আসামি ছানাউল ও অন্যান্য আসামিদের খালাস করতে ১৮ এপ্রিল আদালতে একটি আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাক্ষীদের পুনরায় রিকল না করলে পলাতক আসামির ক্ষতি হবে। বিষয়টি বিচারক ইশরাত জাহানের নজরে এলে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে কারণ জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এতে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ ও আবেদনটি বাতিল করেন। যা রাষ্ট্রের তথা বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বাদী তথা মৃত ব্যক্তির পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

অতিরিক্ত পিপির এ ধরনের কাজে রাষ্ট্র, সরকার ও বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত পিপি নুরুস সালাম সাগর লিখিতভাবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, সচিব এবং সলিসিটরকে অবহিত করেন; যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ জন্য অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন-২’কে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে প্রত্যাহার করা হলো।

এছাড়া তার কাছে থাকা উক্ত আদালতের ৩০১/০৭ দায়রা মামলাসহ অন্যান্য সব মামলার নথি সাত দিনের মধ্যে পিপি অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত অতিরিক্ত পিপি শাহাদত হোসেন-২ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষীয় আইনজীবী হিসেবে আসামির পক্ষ নিয়ে আবেদন করা ভুল হয়েছিল। তবে আমাকে মন্ত্রণালয় নিয়োগ দিয়েছে, তাই পিপি প্রত্যাহারের ক্ষমতা রাখেন না।