খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলা ও বগুড়া পৌরসভার-১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেতগাড়ি গ্রামে বাঁশঝাড় বেশি। সেখানে মাঝে মাঝে শিয়ালের উপদ্রব দেখা দেয়। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক শিয়াল গ্রামবাসীর ওপর হামলে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে এ হামলা চলতে থাকে শিয়ালগুলো। জনগণ লাঠি হাতে তাড়া করলে তারা লোকালয় থেকে পালিয়ে যায়।
শিয়ালের কামড়ে আহত বেতগাড়ি গ্রামের ওমিসা বেগম (৪০) জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কাজ করার সময় হঠাৎ শিয়াল এসে তার হাত ও পায়ে কামড় দিয়েছে। পুরো শরীর ব্যথা হয়ে গেছে; কাজ করতে পারছেন না।
বেতগাড়ি পশ্চিমপাড়ার ময়না বেগম (৩৫) জানান, বাড়িতে রান্না করার সময় শিয়াল এসে তার দুই হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। একই গ্রামের সুশান্ত রায়কে (২১) বাড়ির সামনে কামড় দিয়েছে একটি শিয়াল।
মনোয়ারা বেগম নামে আরেকজন জানান, বাড়িতে ঢুকে একটি শিয়াল তার মা সালেহাকে (৭৫) কামড়িয়েছে। তিনি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই এলাকার মজনু মিয়া জানান, অনেকেই জঙ্গল কেটে বাড়ি করছেন। শিয়ালের থাকার জায়গা না থাকায় তারা লোকালয়ে এসে কামড় দিচ্ছে। ফলে গ্রামের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। শিয়াল কামড় দিয়ে ২৪ জনকে আহত করেছে। এছাড়া ৮-১০টি গরু-ছাগলকেও কামড়েছে তারা। বাধ্য হয়ে বুধবার রাতে জনগণ একটি শিয়াল পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তিনি শিয়ালের কামড় থেকে গ্রামবাসীর বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম জানান, প্রায় ২৪ ঘণ্টায় শিয়ালের কামড়ে ২৪ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। শিয়াল যেন থাকতে না পারে সেজন্য বেতগাড়ি গ্রামের বিভিন্ন এলাকার গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে ১১ জন এবং বৃহস্পতিবার ১৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশি অসুস্থ একজন ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্তদের বিনামূল্যে এন্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন (এআরভি) ও র্যাবিশ ইম্যুনো গ্লোবিউলিন (আরআইজি) দেওয়া হয়েছে। সবার অবস্থা আশঙ্কমুক্ত।