বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উজ্জীবীত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বগুড়ার কাহালুর উলট্ট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ। দেশ স্বাধীন হলেও তার জীবনে আসেনি কোনও পরিবর্তন। জীবন যুদ্ধে পরাজিত এ মুক্তিযোদ্ধা এখন অসুস্থ। তার ফুসফুসে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে।
তিনি জানান, ভাতার টাকায় সংসারই চলে না চিকিৎসা করাবেন কি ভাবে। তার চার ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে দুই মেয়েকে কোনও রকমে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে লেখা পড়া করছে। বড় ছেলে বেকার এবং মেঝ ছেলে কাহালু মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্কুলে চাকরি করলেও এখনও বেতন হয়নি। সেঝ ছেলে লেবার হিসেবে কাজ করেন।
আবদুল হামিদের সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, ‘আবদুল হামিদ ১৯৫২ সালের ১২ জুন বগুড়ার কাহালু উপজেলা সদরের উলট্ট গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি দশম শ্রেণিতে পড়তেন। ২৫ মার্চের কাল রাতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি দেশের ও মানুষের কথা ভেবে ঘরে থাকতে পারেননি। এপ্রিলে তিনি প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের বোয়ালদা ক্যাম্পে যান। সেখানে তৃতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। হামিদ ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়ন ও সিপিবি যৌথ গেরিলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের নুরুল আনোয়ার বাদশার নেতৃত্বে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেটে আবদুল হামিদের মুক্তিবার্তা নং-০৩০৬১১০০৩৩ ও গেজেট নং-১৯১৮।
গেরিলা যোদ্ধা আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। অসুখ ও সংসারে অভাবের কারণে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তার সংসারে মাসে ১২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া আর কোনও আয় নেই। এ টাকায় সংসার চলে না। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মাটির ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে তিনি ঝুঁকি নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করছেন। ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ধার দেনা করে তিনি কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরলেও টাকার অভাবে ওষুধ খেতে ও কেমো দিতে পারছেন না।
কাহালু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজিবর রহমান জানান, আবদুল হামিদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভারতে ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। ডাক্তার বলেছে তাকে প্রতি মাসে একটি করে কেমো দিতে হবে। কেমোর দাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি গতমাসে কেমো দিতে পারেননি। তিনি জানান, সহযোদ্ধা আবদুল হামিদের চিকিৎসা এবং বাড়িটি পুনর্নিমাণ দুটোই জরুরি।
এ ব্যাপারে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুদুর রহমান জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করলে বাড়ির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। চিকিৎসার জন্য তাকে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।