রাবিতে ফের স্কুলের নির্মাণ কাজ চালু

01রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নির্মাণ কাজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ফের শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের আশ্বাসে এদিন সকাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার মমতাজউদ্দিন ডন।
এর আগে রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাঁদা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মমতাজউদ্দিন।
মমতাজউদ্দীন ডন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুনভাই (রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) সহকারে ছাত্রলীগের সভাপতি, সেক্রেটারি ওনার বসে আমাদের কথা দিয়েছে যে এ ধরনের কোনও কাজ হবে না। এছাড়া ছাত্রলীগ বা অন্যকেউ যদি এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে চায় তাহলে তারা নিজেরাই প্রতিহত করবেন, এই মর্মে লিখিত প্যাডে স্বাক্ষর দিয়েছেন।
গত রবিবার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার মমতাজউদ্দিন ডন অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পাঠানো লোক সাইটে এসে ঝামেলা করছে। গত ১০ আগস্ট ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে মমতাজউদ্দিন টাকা দিতে রাজি হননি।
সবশেষ রবিবার দুপুরে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ ওরফে বৃত্তসহ দুই জন সাইটে এসে ম্যানেজার আশরাফুল ইসলামের খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে কিছুক্ষণ পর আবার এসে আশরাফুলকে মোটরসাইকেলে করে ডিনস কমপ্লেক্সের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তারা আশরাফুলকে টাকার বিষয়টি ‘মীমাংসা’ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওইদিন দুপুর থেকে ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর সোমবারও নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার শ্রমিকদের ফের নির্মাণ কাজ করতে দেখা যায়।
সুপারভাইজার মমতাজউদ্দিন বলেন, ‘গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। তারা বিষয়টি দেখছেন বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনও বলেছে সব ধরনের নিরাপত্তা তারা দেবেন। সবার আশ্বাস পেয়ে আমি ফের কাজ শুরু করেছি।’
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে নিয়েছেন জানিয়ে মমতাজউদ্দীন বলেন, ‘যেহেতু ছাত্রলীগের সঙ্গে সমাধান হয়েছে, তারা যে আশ্বাস দিয়েছে সবাই মিলে তাদের বিপরীতে তো যেতে পারি না।’
অবশ্য প্রথম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এই ব্যাপারে তাদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানে সঙ্গে মোবাইলে একাধিবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজ তো আর বন্ধ রাখা যাবে না। আজ (মঙ্গলবার) সকালে কাজ শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তো কিছু করা যায় না। লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।