তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দুপুরে শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শহীদ খোকন পার্কে সমবেত হন। সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এলে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাবার কথা ছিল। এ সময় বেশকিছু উত্তেজিত নেতাকর্মী জুতা-স্যান্ডেল পড়ে শহীদ মিনারে ওঠে স্লোগান দিতে থাকেন।
ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ভেতরে ঢুকে ওইসব নেতাকর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নামতে অনুরোধ করেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্ল্যাকার্ড বহনের লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। লাঠির আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, এএসআই আশরাফুল আলম, কনস্টেবল পারভেজ, মামুন ও শিফাত আহত হন। হামলার পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাচীর ডিঙিয়ে পালিয়ে যান। আহত কনস্টেবল পারভেজকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার সময় তারা এক কনস্টেবলের হাতে থাকা রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে রাইফেলের ট্রিগার নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারের এসআই জিলালুর রহমান সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যানসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে বেআইনি জনতা দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা, হামলা চালিয়ে মারধর ও রাইফেলের ট্রিগার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।