ঋণের কিস্তি না পেয়ে জয়পুরহাটের কালাইয়ে কর্মরত গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালাই উপজেলার পৌর শহরের সোনালী ব্যাংক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন ঋণগ্রাহক রহেদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মনিষা বেগম এবং মা মোমেনা বেগম। তাদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তি নিতে শনিবার ব্যবসায়ী শনিবার রাত ৮টার দিকে রহেদুল ইসলামের বাসায় যান গাক-এর উপজেলা ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব, মাঠকর্মী আনছার আলীসহ চারজন। সেখানে কিস্তির টাকা বকেয়া রাখায় উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে গাক কর্মী আনছার আলীসহ অন্যরা রহেদুলকে মারপিট করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এসে মা মোমেনা বেগম ও স্ত্রী মনিষা বেগমও মারপিটের শিকার হন।
তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব কর্মীদের নিয়ে উপজেলার ডাক বাংলোতে গিয়ে আত্মরক্ষা করে। খবর পেয়ে স্বজনরা আহত রহেদুল স্ত্রী মনিষা বেগম ও মা মোমেনা বেগমকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত রহেদুল বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমার নামে ২৬ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হলেও বড় ভাই এবং অন্যান্য সদস্যদের বকেয়া দেখিয়ে ২২ হাজার টাকা শাখা ব্যবস্থাপক কেটে নেন। তারপরও আমি ৬৫০ টাকা হারে সাপ্তাহিক কিস্তি দিয়েছি। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে গত দেড় মাস কিস্তি দিতে পারিনি। কিস্তি বকেয়া পড়ায় তারা আমাকে বেদম মারপিট করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে গাক-এর কালাই উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব বলেন, রহেদুল কিস্তি না দিয়ে কয়েক মাস ধরে পালিয়ে আছে। শনিবার রাতে মাঠকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে উল্টো তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছি। আমরা তাকে মারপিট করিনি।
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুর আলম রিকো বলেন, আহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।