রাজশাহীর বাজারে লিচু উঠলেও স্বাদ টক


লিচু বাগান


রাজশাহীর বাজারে এরই মধ্যে লিচু উঠে গেছে। তবে ভালোভাবে পরিপক্ক না হওয়ায় টক লাগছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজশাহী নগরীর মাস্টারপাড়া, সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় লিচু বিক্রি করতে দেখা গেছে। ১০০ লিচু ২০০- ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

নগরীর হাদীর মোড় এলাকার মিজান তার সন্তানদের জন্য লিচু কিনেছিলেন। কিন্তু তার শিশু সন্তানরা লিচু খেয়ে বলেছে এখনও ভালোভাবে পাকেনি।

নগরীর খড়খড়ি এলাকার মতিউর রহমান বলেন,  ‘এই এলাকায় আমার পাঁচটি লিচুর গাছ আছে। লিচুর গায়ে রং ধরতে শুরু করেছে। ২০-২৫ রমজানের দিকে গাছ থেকে লিচু নামানো হবে। আজকে (মঙ্গলবার) কয়েকটি লিচু নামিয়ে ছোট ছেলেদের খেয়ে জানাতে বললাম কেমন স্বাদ হয়েছে। তারা জানালো টক লাগছে।’  

বাজারে উঠেছে লিচু
এবার রাজশাহীতে বেড়েছে লিচু চাষ। লিচু চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামসুল হক। তিনি জানান, এবছর রাজশাহী জেলায় ৪৯৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষবাদ হয়েছে। গত বছর ৪৯০ হেক্টর জমিতে ও ২০১৮ সালের লিচুর চাষ হয়েছে ৪৮০ হেক্টর জমিতে। যা তিন বছরে বেড়েছে ১৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ। ধারণা করা হচ্ছে, ২ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন লিচু উৎপাদন হবে। 
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আব্দুল আলীম জানান, রাজশাহী অঞ্চলে মূলত উন্নতমানের জাত হিসেবে পরিচিত বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফ্ফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ি, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু উৎপাদিত হয়। এসব লিচুর মোট উৎপাদনও বেশি, আবার আকারেও বড়। রঙও মনলোভা। এবার আম-লিচুর ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। গাছে মুকুল আসার পরে তেমন কুয়াশা ছিল না। 

লিচু
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর পবার বিভিন্ন এলাকায়, রায়পাড়া, বুলনপুর, ছোটবনগ্রাম ও কাটাখালি, কুখন্ডি, হরিয়ান ও বুধপাড়ায়  এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হচ্ছে। এছাড়া জেলার বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলাতেও চাষ হচ্ছে লিচুর। চাষিরা বলছেন, এবার ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। তাই লিচুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার লিচু চাষী নাজমুল ইসলাম জানান, গত বছর ঝড়ের কারণে গাছের অধিকাংশ লিচু ঝরে গিয়েছিল। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার ঝড় হয়নি। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামসুল হক আরও বলেন, এ বছর লিচুর ফলন ভালো হবে। কারণ গাছে হালকা লিচু থাকলে ওজন ও আকারে বড় হয়। তাতে চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।