সুজানগরের সাতবাড়িয়া পদ্মাপাড়ে প্রায় ২০ মন ওজনের দুটি ষাঁড় নিয়ে বিপাকে আছেন আশু শিকদার। তিনি জানান, প্রতিবারই দুটি করে গরু লালনপালন করেন। ঈদের আগে বাইরের ব্যাপারী এসে কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু এবার করোনার কারণে বাইরের ব্যাপারী না আসায় তিনি গরু দুটি নিয়ে বিপাকে আছেন।
হাজিরহাটের বাদশা মিয়া বলেন, বাড়িতে ১৫টি করে গরু পালন করে কোরবানির সময় বিক্রি করি। কিন্তু এবার বাড়িতে কোনও ক্রেতা না যাওয়ায় হাটে এনেছি। কিন্তু লোকই নেই, গরুর দাম বলবে কে?
চাটমোহরের রেলবাজারের গরু বিক্রেতা রফিক মিয়া বলেন, করোনা, বৃষ্টি-বন্যা পিছু ছাড়ছে না। তারওপর গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু পোষাই দায় হয়ে গেছে। ক্রেতা নেই বলে গরু বিক্রি করতে পারছি না। দিন যত এগুচ্ছে চিন্তা বেড়ে যাচ্ছে।
কয়েকজন গরু খামাররির সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, আশপাশে পানি ওঠায় গরু রাখা হয়ে পড়েছে গলার কাটা। তারপর গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ সংকট দেখা দেওয়ায় গরু বিক্রি না করে বাড়িতে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটঘরিয়া পৌর গরু হাটের ইজারাদার বলেন, এবার হাট জমবে বলে মনে হচ্ছে না। আশপাশের প্রচুর গরু আমদানি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি নেই। ফলে এবার হাট নিয়ে কাঙ্খিত লাভ থাক, আর্থিক ক্ষতি দেখছি।
এদিকে জেলা তথ্য অফিসের প্রচার যন্ত্র দিয়ে পাবনায় প্রচার চালানো হচ্ছে অনলাইনে কোরবানি পশু ক্রয় করার জন্য। এতে করোনা সংক্রমন রোধে স্বল্প পরিসরে হাটে যাওয়ার জন্য এবং অনলাইনের মাধ্যমে গরু ক্রয় করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন অনলাইনে কোরবানি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য (www.pabnaebazar.com)
‘পাবনা ই-বাজার’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে। এদিকে জেলার সুজানগরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের উদ্যোগে (pabnagro.ml) অনলাইনে ডিজিটাল গরুর হাট চালু করেছেন। এতে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে।
স্থানীয় খামারি ও কলেজ শিক্ষক ইমদাদুল হক বলেন, আমার ৩০ টি গরুর খামার আছে। এবার গরু নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। তবে এমপি সাহেবের অনলাইনের গরু হাটে ছবি, ভিডিও তথ্য দিয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছি।
জেলার সচেতন মহল কোরবানির পশুর হাটে উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, শুনেছি হাটে স্বাস্থ্য বিধির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কার্যত কোনও হাটে স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই। বরং গরু কিনতে আসা মানুষগুলো থেকে করোনা সংক্রমন বাড়তে পারে বলে ধারণা তাদের।
এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, হাটগুলোতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলার সমন্বয় সভায় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনই নয়, হাটের ইজারাদার, স্বেচ্ছাসেবকসহ সবাইকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। করোনা সংক্রমন রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলার কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাজ করতে হবে এমনটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল জানান, কোরবানির ঈদকে ঘিরে পাবনা জেলায় দুই লাখ ৪০ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার জেলায় ২৬টি হাটে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করা হবে। প্রতিটি হাটে ভেটেনারী মেডিক্যাল টিম থাকবে। সুস্থ পশু ক্রয়ে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।