সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের চিত্রবগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগামীকালের মধ্যে বিপদসীমা স্পর্শ করতে পারে। এদিকে সোনাতলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আউচারপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি যমুনায় বিলীন হয়েছে। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আউচারপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী জানান, নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টি বিলিন হয়। অভিভাবকরা বন্যার পর স্কুলটি পুনরায় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
আউচারপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি যমুনায় বিলীন হয়েছেখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণির সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবরুরবাড়ি, নারচি ইউনিয়নের গাছবাড়ি, উত্তর গণকপাড়া ও গোদাগাড়ী, সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ও চর গোসাইবাড়ী, কুতুবপুর ইউনিয়নের মাছিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর দিক, মাছির পাড়া বাঙালি সেতুর পশ্চিম পাশে যমুনা তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের বাঁশহাটা গ্রামে বাঙালি নদীর তীর ভাঙছে। পাশাপাশি তীরবর্তী ফসলি জমি, ঘরবাড়ি নদীতে ধসে যাচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদরে নির্বাচন অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সারিয়াকান্দি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা সদরে আসতে শাহপাড়া এলাকায় বাঁশ দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাউবো-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৬টায় সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার ২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।