সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাছ শিকার। মাছ শিকারিদের দাবি কেউ খালি হাতে ফিরছেন না। তাই মাছ চিকারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে জেলার বড়াইগ্রাম আর নলডাঙ্গায় শৌখিন মাছ চিকাশিরা অপেক্ষায় রয়েছেন পলো দিয়ে মাছ শিকার উৎসবে অংশ নেওয়ার। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
সদর উপজেলার ভাঁটোদাঁড়া গ্রামের ইব্রাহীম মৃধা, মানিক বাঘ এবং দিঘাপতিয়া কলেজ পাড়ার আশরাফ আলী জানান, প্রতি বছরের মত এবারও তারা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছেন। বাড়ির পাশের জলাশয় ছাড়াও প্রায়ই সিংড়া উপজেলার শেরকোলসহ বিভিন্ন জায়গায় মাছ শিকারে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই পুঁটি, কৈ, কাতল, মৃগেল ইত্যাদি মাছ পাচ্ছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, পানি কমতে থাকায় এলাকার মৎস্যজীবী ছাড়াও সাধারণ মানুষ পাশের বিল ও জলাশয়ে মাছ শিকারে ব্যাস্ত। এজন্য তারা জাল ছাড়াও চৈকা, খলসুন ব্যাবহার করছেন। এছাড়া অনেককেই পাঁচা হাতে মাছ শিকার করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ বা পলো নিয়ে মাছ শিকার করছেন।
সিংড়া উপজেলার দমদমদ এলাকার রাজু, রবিন এবং ডাহিয়া এলাকার বাবু জানান, সিংড়া-বগুড়া মহাসড়কের পাশে প্রতিদিনই শত শত মানুষ বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছে। এছাড়া বিভিন্ন বিল ও জলাশয়েও জাল, খলসুন, চৈকা, পলো ও পাঁচা দিয়ে দিনরাত মাছ শিকার করছেন অনেকে। এসব মাছ নিজ পরিবারে রান্নার পাশাপাশি অনেকে বিক্রি করে আয়ও করছেন।
বড়াইগ্রাম উপজেলার অধিবাসী ওহিদুল হক জানান, উপজেলার চিনিডাঙ্গা বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিদিনই মাছ শিকার চলছে। তবে শীতের শুরুতে নির্ধারিত দিনে পলো দিয়ে চিনিডাঙ্গা বিলে মাছ শিকার সকলের দৃষ্টি কাড়ে। ওই উৎসবের প্রহর গুনছেন তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর বন্যায় জেলার অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ফলে সাধারণ মাছের পাশাপাশি ওইসব পুকুরের মাছও বিল-জলাশয়ে পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য মাছ শিকারে উৎসাহিত হচ্ছে মৎস্যজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এ কারণে এবার নাটোরে মাছের দামও কম। তাই বাংলার চিরায়ত মাছে-ভাতে বাঙালির মতোই প্রতিটি দিন পার করছে পাবনার মানুষ।